সর্বশেষ সংবাদ :

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার : আক্কেলপুরে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে শোকজ

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে রুকিন্দপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছেন ওই শিক্ষক। শনিবার অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সকালে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সংবাদ সম্মেলনের পর শুক্রবার রাতে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন বিএনপি। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২১ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ ও আতিয়ার রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মীর মো. আতিকুজ্জামান মুন বিদ্যালয়ে গিয়ে নির্বাচিত অভিভাবক সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চাপ দেন। এতে আপত্তি জানালে হারুনুর রশিদ প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করে হুমকি দেন। এতে তিনি আহত হন এবং চিকিৎসা নেন। পরদিন ২২ জুন তিনি আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তাঁকে বান্দরবানে বদলির ভয় দেখিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁকে মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তবে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুর রহমান (ছোয়াত) ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেলের সই করা শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ২১ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হারুনুর রশিদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আরেক অফিস আদেশে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির নজরে আসে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া আজ শনিবার একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে হারুনুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওই প্রধান শিক্ষক ঘুষের বিনিময়ে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎসাহী দুজনের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমানকে সভাপতি করার জন্য নাম প্রস্তাব করেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য গেলে প্রধান শিক্ষক অশোভন আচরণ করে ভাই দুলালসহ আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাঁকে জুতাপেটা ও মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, আমার দলীয় শুনাম নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ আমিও দিয়েছি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেল বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্য হতে পারে, এমন অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া গেছে। যেহেতু বিষয়টি পুলিশের তদন্তাধীন, তাই আপাতত আলাদাভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬ | সময়: ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ