সর্বশেষ সংবাদ :

জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জাহানারা ইমাম হল সংসদের নিন্দা

জাবি প্রতিনিধি :

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হল সংসদ।

রবিবার (২৮ জুন) জাহানারা ইমাম হল সংসদের সহ-সভাপতি মোছা:মাহমুদা খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ানা বুশরা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও অশালীন মন্তব্য করেছেন। আমরা, জাহানারা ইমাম হল সংসদের পক্ষ থেকে উক্ত অবমাননাকর, কটূক্তিমূলক ও অশালীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সন্তান শাফী ইমাম রুমী দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, শহীদ হয়েছেন। জাহানারা ইমামের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে। এটি কেবল একটি নাম নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় স্বীকৃতি। তাঁর স্মৃতি, অবদান এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদ পরিবারের আত্মত্যাগ এবং দেশের দেশের আপামর জনগণের অনুভূতিকেও আঘাত করেছে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কে জান্নাতি এবং কে জাহান্নামী; এই চূড়ান্ত ফয়সালা দেওয়ার একমাত্র অধিকার মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের পরকালীন পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তাই কাউকে জাহান্নামের অধিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা ধর্মীয় সংযম, ইসলামি আদব ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি; তবে সেই স্বাধীনতা কখনোই ব্যক্তিগত অবমাননা, বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা জাতীয়ভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার প্রদান করে না। সেই স্বাধীনতার সঙ্গে শালীনতা, দায়বদ্ধতা এবং অন্যের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দায়িত্বও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক, অবমাননাকর মন্তব্য সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে, যা সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের সবার নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।

সেই প্রেক্ষাপটে তাঁকে অবমাননা করার যেকোনো প্রচেষ্টা জাহানারা ইমামের পরিবার, আমাদের হল তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল। জাহানারা ইমাম হল সংসদ উক্ত অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছে। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার আলোকে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ ধরনের বিভাজনমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানে উৎসাহিত না হন।


প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬ | সময়: ৮:২২ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine