মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার রাজশাহী পুলিশ লাইনসের পিওএম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগ ও রেঞ্জের ৮৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অর্থ), পুলিশ সদর দপ্তর আতিয়া হুসনা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ ধীরে ধীরে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ হাজার নারী পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সক্ষমতা ও নেতৃত্ব উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিপিডব্লিউএন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের প্রতিনিধিরা কৌশলগত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করেন। এছাড়া ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি বলেন, নারী কর্মকর্তাদের নিজেদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি মনোযোগী হতে হবে। পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার ছাড়া প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি লায়লা জাসমিন বানু কর্মশালায় উপস্থিত অতিথি ও বিপিডব্লিউএনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিপিডব্লিউএন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিদ্যমান প্রতিরোধ কমিটিগুলো সক্রিয় করা এবং বাহিনীর সব সদস্যকে এ বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। আলোচনায় জানানো হয়, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএনের সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত “এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ইএসজিবিভি)” প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।