, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছেন নাহিদ রানা। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এটা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নাহিদের দল পেশোয়ার জালমি ফাইনালে উঠেছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটারের উন্নতির অংশ। সেই বিবেচনায় নাহিদকে অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়েছে। এর সাথে টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবির মেডিকেল টিমের কাছ থেকেও ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। একইসাথে তারা নিশ্চিত করেছে, ফাইনালে খেললে নাহিদের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে প্রভাব পড়বে না।
এর আগে পিএসএলে খেলতে গিয়ে প্রথম দফায়ও বাড়তি দুই দিন ছুটি পেয়েছিলেন নাহিদ ও শরিফুল ইসলাম। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলার জন্য দেশে ফেরেন দুজনই। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে ৮ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা। সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
পিএসএলে আগের দফার মতো এবারও ফাইনাল খেলতে দেওয়ার জন্য বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ দিয়েছেন পেশোয়ার জালমির কর্নধার জাভেদ আফ্রিদি। এক্সে তিনি লিখেন, পিএসএলের ১১তম আসরের ফাইনালে নাহিদ রানাকে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য তামিম ইকবাল ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ।
এবারের বাংলাদেশ মোট ৬ জন ক্রিকেটার পিএসএল খেলতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। তারা হলেন-মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের জন্য তাদের সবার ছাড়পত্র ছিল ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর নাহিদ ও শরিফুলের অনাপত্তিপত্র বাতিল করে বিসিবি।
শেষ পর্যন্ত পেশোয়ারের অনুরোধে নাহিদ রানাকে ফাইনাল খেলতে যেতে দিচ্ছে বিসিবি। আগামী ৮ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। বিসিবি জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে ওই ম্যাচের জন্য ভালোভাবেই এভেইলেবল থাকবেন নাহিদ।
এবারের পিএসএল দিয়েই দেশের বাইরের লিগে অভিষেক হয়েছে নাহিদের। দেশে ফেরার আগে ৪ ম্যাচ খেলে ওভারপ্রতি মাত্র ৫.৪২ রান খরচ করে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন এই গতিতারকা। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পেশোয়ার জালমি। ৩ মে তাদের প্রতিপক্ষ অবশ্য কে হবে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়।
নতুন কুড়িতে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার কিশোর-কিশোরী
স্পোর্টস ডেস্ক: দেশের আনাচ-কানাচ থেকে মেধাবী ক্রীড়াবিদ বের করে আনতে সরকার ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই বিশাল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এই প্রতিযোগিতায় ১২-১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট-এই ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে। সারা দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী এতে নিবন্ধিত হয়েছে। ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শেষে বাছাইকৃত মেধাবীদের নিয়ে সরকারের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সকল প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরকে আমরা অন্বেষণ করব। সরকারিভাবে তাদেরকে ক্রীড়া বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে আমরা আমাদের যে ঢাকা শহর, বিভাগীয় শহরগুলোতে যে বিকেএসপি রয়েছে সেখানে আমরা তাদেরকে সেই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সকল দায়-দায়িত্ব আমরা বহন করব।’
আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দরকার সেগুলো নিশ্চিত করে যাতে আমরা—যেমন চট্টগ্রাম থেকে কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে আমরা ঢাকায় এনে রাখতে চাই না। আমরা চাই সে চট্টগ্রামেই থাকবে যাতে তার পরিবার এবং তার যে যাতায়াত তার সকল কিছু যাতে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে এলাকা থেকেই।’
প্রতিভা বাছাইয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী হিসেবে না,ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি নিজে চোখে দেখব যাদেরকে আনা হয়েছে তারা সত্যিকার অর্থেই প্রতিভাবান কি না। এখানে স্বজনপ্রীতি করার কোনো সুযোগ নেই।’ শুধু প্রতিভা অন্বেষণই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের যেকোনো চোট বা শারীরিক সমস্যায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে প্রতিটি ভেন্যুতে মেডিকেল টিম কাজ করবে।