বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় বিপাকে পড়েছে রাস্তার পাশে থাকা তপশীলি সম্পত্তির মালিকরা।
আদালতে দায়ের করা একটি মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় ৮-১০ জন প্রভাবশালীরা সরকারের (সড়ক ও জনপথের সম্পত্তি) এই সম্পদ দখলের সাথে জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন রীতিমত পাকা স্থাপনাও নির্মাণ করছেন। তারা হচ্ছেন গোদাগাড়ী উপজেলার রামনগর (ডাইংপাড়া মোড়) এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মাস্তান ও আব্দুর রউফ বিশ্বাস। এছাড়াও এই অবৈধ দখলের সাথে জড়িত রয়েছে, ভাটোপাড়া কাদিপুর এলাকার রাশেদ আলী, তাজিরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম। সাহাব্দীপুর এলাকার রবিউল ইসলাম, রিয়াদ আলী, সইবুর আলী মিস্ত্রী ও লিয়ন।
এদিকে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের কারনে স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী মামলার বাদী মো: তৌসিক আহমেদ মামলায় অভিযোগ করেন, একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক রাস্তার অংশ দখল করে চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, জনস্বার্থও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সওজ কর্তৃপক্ষ, যাদের দায়িত্ব সরকারি জমি রক্ষা করা, তারা এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা রাখছে না।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছেন, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং দখলদারদের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়।
এদিকে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন দ্রুত সরকারের (সওজের) জমি দখলমুক্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এমন দখলদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারিদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ স্বীকার করেনি এই স্থাপনা কে নির্মাণ করছে। সেখানে মনিরুল ইসলাম নামের একজন ডাব বিক্রেতা জানান, এই স্থাপনা মসজিদ কমিটি নির্মাণ করছে। মসজিদ কমিটিতে কারা আছেন বা কারা করছেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানেন না বলে প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মামলায় বিবাদীদের (দখলদার) সাথে যোগাযোগের চেস্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন প্রতিবেদক। তাই তাদের বক্তব্য ও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক জানান, আমরা এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ করেছি, তারা যেন দ্রুত স্থাপনা সরিয়ে নেন। তাছাড়া আমাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নেই, তাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পেলে উচ্ছেদ অভিযান করা হবে।