বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনের মাঝে হঠাৎ নামা স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে রাজশাহীর মানুষের মাঝে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও মঙ্গলবার বিকেলের দিকে হওয়া এই বৃষ্টি নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। বিশেষ করে আম, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল চাষে এই বৃষ্টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন,“গত কয়েকদিন এমন গরম পড়ছিল যে ঘরের বাইরে থাকা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আজকের বৃষ্টিতে একটু হলেও স্বস্তি পেলাম।” উপশহর রিকশাচালক রবিউল ইসলাম জানান,“গরমে সারাদিন কাজ করা খুব কষ্ট হচ্ছিল। বৃষ্টি হওয়ার পর আবহাওয়া ঠান্ডা হয়েছে, এখন কাজ করতেও আরাম লাগছে।” শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন,“রোদে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছিল না। বৃষ্টির পর পরিবেশটা অনেকটা সহনীয় হয়েছে।”
তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বৃষ্ঠিতে আম কাঠালসহ মৌসুমে ফলের জন্য উপকার হবে। রাজশাহীর আমচাষি মিজানুর রহমান বলেন,“এই সময়ে হালকা বৃষ্টি আমের জন্য খুব উপকারী। এতে গাছ সতেজ থাকে এবং গুটি ঝরে পড়ার সম্ভাবনা কমে।”
পবা উপজেলার আরেক চাষি আবুল কালাম জানান,“বৃষ্টির কারণে মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে, এতে ফল বড় হতে সুবিধা হবে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে সমস্যা হতে পারে।” কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়ের বৃষ্টি ফলের বৃদ্ধি ও গাছের পুষ্টির জন্য সহায়ক হলেও ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজশাহী বিভাগেও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিলো। মঙ্গলবার বিকেলে ১ দশমিক ৪ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রাজশাহীতে হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক আবহাওয়া পূর্বাভাসে দেখা গেছে, রাজশাহীতে দিনের তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও হঠাৎ বজ্রঝড় ও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমে আসে, যা জনজীবনে স্বস্তি দেয়।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ জানান, এপ্রিল মাসে সাধারণত তীব্র গরমের পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড় ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি হয়ে থাকে। গরম ও শীতল বায়ুর সংঘর্ষে এই ধরনের ঝড়-বৃষ্টি সৃষ্টি হয়, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়।