সর্বশেষ সংবাদ :

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যাকান্ড চারদিন পর মামলা রেকর্ড, আসামী ৭

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাকান্ডের ৪ দিন পর অবশেষে ঈশ্বরদী থানায় ‘হত্যা মামলা’ রেকর্ড করা হয়েছে। নিহত সোহাগের পিতা ইমানুল প্রামানিক এনামুল বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। রোববার গভীর রাতে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়। সোমবার ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের মৃত কোরবান আলী কবিরাজের ছেলে রাজন হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৭ জনকে এই হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীরা হলেন কোরবান কবিরাজের ভাই সাজাহান ড্রাইভার, সাজাহানের ছেলে রুবেল হোসেন ও নয়ন, মৃত কোরবান কবিরাজের ছেলে সুমন, স্বপন এবং স্বপনের ছেলে সাজিম।
ঈশ্বরদী থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, সোমবার পর্যন্ত এসব মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গ: গত বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল রাতে কুপিয়ে ও মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদল ও জিয়া সাইবার ফোর্সের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসেন সোহাগকে সাঁড়াগোপালপুর স্কুলের সামনের দোকানের গলিপথে হত্যা করা হয়।
মামলার বাদি নিহত সোহাগের পিতা ইমানুল প্রামানিক এনামুল মামলার এজাহারে উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে মিজান নামের একজন সাঁড়া গোপালপুর তালতলা মোড়ে যাবার কথা বলে আমার ছেলে ইমরান হোসেন সোহাগের নিকট হতে তার মোটর সাইকেলটি নিয়ে যায়। সোহাগ তার মোটর সাইকেলের জন্য অপেক্ষা করছিল।
এসময় রাত পৌণে দশটার সময় সাঁড়া গোপালপুর স্কুল মাঠের পিছন হতে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করতে করতে রেল লাইনের উপরে আসে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আশপাশের দোকানদার সহ আমার ছেলে ইমরান হোসেন সোহাগ ও তার বন্ধু অন্তর দৌড়ে পালানোর সময় সুজনের চায়ের দোকানের গলির ভিতর পৌঁছামাত্র আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোহাগকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করে সোহাগের মাথার খুলি ক্ষত বিক্ষত করে, বুকের উপরে এবং গলার নিচে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সে সময় সোহাগের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু অন্তরকেও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, এ হত্যাকান্ড নিয়ে দায়ের করা মামলা অধিকতর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ছাত্রদল নেতা, জিয়া সাইবার ফোর্সের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ও জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসেন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ মুহুর্তে স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও বেলা ১১টায় শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ব্যাপক আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগ মূহুর্তে এসব কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি ও পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক জাকির হোসেন জুয়েল।


প্রকাশিত: April 7, 2026 | সময়: 3:17 am | সুমন শেখ