সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে তারেক রহমান : আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের জয় হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে জনগণের দিন। কেউ যেন আাগামী নির্বাচন বানচাল করতে না পারে, এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বিগত সময়ে তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি, নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, ডামি-গায়েবি নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেননি। তিনি বলেন, আরেকটি মহল নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বাধাগ্রস্ত করা যায় তার ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এসময় তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদীর ওপর উজানে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা ব্যারাজের বিপরীতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহীর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ২২ বছর আগে কয়েক দফা রাজশাহী এসেছিলাম। শীতকালে এসেছিলাম শীতার্তদের কম্বল বিতরণ করতে। গ্রীষ্মকালের এসেছিলাম মানুষর পাশে দাড়িয়ে হাস-মুরগি বিতরন করে স্বাবলম্বী করে তুলতে।
তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী নিয়ে কথা বললে সবার আগে ভেসে আসে পদ্মা নদীর নাম। সেই পদ্মা নদীতে পানি নেই। রাজশাহীর আরেকটি নাম শিক্ষানগরী। এখানে অনেক শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁরা ঘরে বসে আছেন। এই রাজশাহীতে আইটি পার্ক হয়েছে কিন্তু কোন কাজ নেই।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। আইটি পার্ক সচল করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পে বিগত ১৬ বছর তেমন কাজ হয়নি। বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরেন্দ্র প্রকল্পের এখন যায় যায় অবস্থা। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করা হবে, খাল খনন করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষির জন্য পুরানো পরিকল্পনাগুলো নতুন করে চালু করা হবে। এতে কৃষকরা সুবিধা পাবে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। এ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করতে চাই-উল্লেখ করে তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা সুদসহ কৃষিঋন মওকুফ করা হবে। মায়েদের স্বাবলম্বি করতে ফ্যমিলি কার্ড প্রদান করা হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পবেন। রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় মঞ্চে তারেহ রহমানের সহধর্মীনি ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাপাইবাবগঞ্জের বিএনপি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে সবার সঙ্গে পচিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, ভোটের দিন পর্যন্ত তাদের দেখে রাখবেন। ভোটের পর আপনাদের এরা দেখে রাখবে। এসময় তিনি ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, গেল ১৭ বছর দেশের মানুষের জন্য কোনো কাজ হয়নি। মেগা-প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও বড় হয়েছিল, কিন্তু বরেন্দ্র প্রকল্প আজ বন্ধ। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প চালু করতে চাই, খাল খনন করতে চাই, পদ্মা নদী খনন করতে চাই।
রাজশাহীর আমের জন্য হিমাগার করা এবং কর্মসংস্থান তৈরি করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান আরো বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশ গণতন্ত্রের দিকে নাকি অন্য দিকে যাবে? আগামী ১২ তারিখে দেশের মানুষকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্র ধরে না রাখতে পারলে মেগা প্রকল্প, জনগণের প্রকল্প হবে না। তাই যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা উচু করে ধরে রাখতে হবে।
বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে-উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ঝগড়া-ফ্যাসাদে যেতে চায় না। সেজন্য আমি কারও সমালোচনাও করছি না। আমি যদি কারো সমালোচনা করি, তবে কারো লাভ হবে? পেট ভরবে? এ সময় কোথাও কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সঠিক তদন্ত করে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন।
বিমানবন্দরে অবতরনের পর কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারেক রহমানকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউস হয়ে মাদ্রাসা ময়দানের সামনে দিয়ে হয়রত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে যান। এ সময় হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান তিনি। অন্যদিকে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান।
রাজশাহীতে তারেক রহমানের সফর ঘিরে কয়েকদিন ধরেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হন লাখো নেতাকর্মী। তাঁদের হাতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পতাকা রঙিন করে তোলে মাদ্রাসা ময়দান। বিকেলে মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে নওগাঁর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
এর আগে জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-১ আসনের শরীফ উদ্দীন, রাজশাহী-২ আসনের মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনের ডি এম ডি জিয়াউর রহমান, রাজশাহী-৫ আসনের নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাইদ চাঁদ। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের শাহ্জাহান মিঞা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশিদ, নাটোর-১ আসনের ফারজানা শারমীন, নাটোর-২ আসনের এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ আসনের আনোয়ারুল ইসলাম ও নাটোর-৪ আসনের আব্দুল আজিজ।


প্রকাশিত: January 30, 2026 | সময়: 1:31 am | সুমন শেখ

আরও খবর