জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন সেবা বন্ধ

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সহ জেলার ফার্মেসীগুলোতেও এখন মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। এতে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া রোগীরা ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব আশংকাজনক ভাবে বেড়ে গেছে। সামান্যতম অসতর্ক ভাবে পথ চলতে গেলেই কুকুর-বিড়াল মানুষ ও গবাদি পশুর উপর আক্রমণ করছে। এরপর ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতালে গেলেই দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই। অথচ কিছুদিন আগেও হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সব ডোজ দেওয়া হতো। এখন সেটাও বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিদিন আক্রান্ত লোকজন হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
একাধিক আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফার্মেসিতেও পাওয়া যাচ্ছে না ভ্যাকসিন। দোকানিরা বলছে, ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই, পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, দাম নিচ্ছে দ্বিগুণ থেকে কয়েকগুন পর্যন্ত। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরবরাহ না থাকলে আমাদের করার কি আছে, যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে।
জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের একাধিক কো¤পানির প্রতিনিধি জানালেন, তাঁদের ফ্যাক্টরিতে ভ্যাকসিনের কাঁচামাল না থাকায় আপাতত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে, খুব দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে বলেও জানান তারা। বিভিন্ন ফার্মসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে বিভিন্ন পৌরসভায় ভ্যাকসিন দেওয়া হত, এখন সেটাও বন্ধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কো¤পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ছাড়পত্র হাতে দিয়ে ফার্মেসি থেকে ক্রয় করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগী ও তাদের স্বজনরা জীবন রক্ষা করতে এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটাছুটি করছেন। তবে, দুই একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা সুযোগ বুঝে কয়েকগুন বেশি দামে রোগীদের কাছে বিক্রি করছেন।
জেলা আধুনিক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। সংকট নিরসন বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। গত অক্টোবর মাসে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যা পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দ্বিগুন পরিমাণ চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে, গত ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জলাতঙ্ক রোগীর পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে ডিসেম্বর মাসের ভ্যাকসিন এখনও হাসপাতাল পৌঁছায়নি। এজন্য রোগীদের বাহির থেকে ভ্যাকসিন কিনে পুশ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সরদার রাশেদ মোবারক জুয়ল বলেন, হাসপাতালে এখন একেবারে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। রোগীর চাপ সামলাতে একটি ভ্যাকসিন চারজনকেও ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। যখন সরবরাহ একদম বন্ধ হয়ে গেছে, তখন বাহির থেকে সংগ্রহ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযাগও করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট নিরসন হবে।
সিভিল সার্জন ডাঃ মো. আল-মামুন বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। যখন ভ্যাকসিন মজুদ ছিল তখন প্রতিদিন কমপক্ষে ২শত থেকে ৩ শত রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। তবে আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি ভাবে হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ হবে।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ | সময়: ২:০০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ