গণভোট নিয়ে জনগণের কাছে যান, ইসিকে অনুরোধ উপদেষ্টা সাখাওয়াতের

সানশাইন ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, জনগণ গণভোট না দিলে সবকিছু আগের ব্যবস্থায় চলার ‘শঙ্কা’ দেখছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। সে জন্য গণভোটের বিষয়টি জনগণকে বোঝাবার জন্য তাদের কাছে যেতে নির্বাচন কমিশন-ইসিকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উপদেষ্টা বলেন, “আমি নিজেই সরকারের সদস্য তারপর আমাকে বলতে হবে যে এই সংস্কারগুলো করার কথা, সেগুলো হয়েছে? বিশেষ করে সংবিধানিক বিষয়, সাংবিধানিক বিষয়গুলো। “কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলের মন মানসিকতাটা কি? তারা কি আগের মতই চলতে চায়, না তারা পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। সেরকম কোন কথাবার্তা আমরা কিন্তু সুস্পষ্টভাবে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে এখনো শুনিনি। যদিও একটা নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি যারা বারবার এই কথাটা বলছে। তাদের মুখ থেকে শুনেছি। কিন্তু অন্য কারও বক্তব্য আমার কাছে স্পষ্ট না।”
সংস্কার সম্পূর্ণ ভোটারদের ওপর নির্ভর করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যারা ভোট দিতে যাবেন তারা কোথায় ভোট দেবেন? তারা এখানে ভোট দেবেন কি দেবেন না। তারা বুঝবেন কি বুঝবেন না। আর নির্বাচনের তারিখ থেকে প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু এটা নিয়ে একমাত্র সরকারের তরফ থেকে যতটুকু প্রচার প্রচারণা হচ্ছে সেটুকুই তো। ভোটের গাড়ি অথবা টেলিভিশনে আনা হচ্ছে।
“কাজেই আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব যে আপনারা গণভোট নিয়ে জনগণের কাছে যান, গণভোট কিভাবে হবে, এটা জনগণকে বুঝাবার চেষ্টা করেন। প্রয়োজন হলে আপনি অন্যদের সহযোগিতা নিন। এটা অত্যন্ত জরুরি, আমরা যদি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে অতীতের মত শাসন ব্যবস্থায় না যেতে চাই। তাহলে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট নিয়ে মাঠে নামতে বলবো এবং সেটার জন্য যা সহযোগিতার দরকার অবশ্যই সরকার করবে।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “গণভোট নিয়ে যে সমস্ত আশঙ্কার কথা এখানে আলোচিত হয়েছে, সত্য হল যে এখন পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের কাছে এটার অনেক কিছুই অস্পষ্ট, ‘ক্লিয়ার’ না। এটা সত্য। “পাশাপাশি এই জুলাই জাতীয় সনদ, এই সংস্কার উদ্যোগ, এই গণভোটকে ঘিরে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন, অপপ্রচার এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার দ্বারা তৎপরতা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিদ্যমান।”
কেন এটা বিদ্যমান? এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “বিদ্যমান এই জন্য যেই ফ্যাসিবাদীদেরকে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ বিতাড়িত করেছে। তারা বিতাড়িত হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে তারা বিতাড়িত হয়েছে। এটা সত্য। কিন্তু তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাদের অন্তত দুটো মহাক্ষমতা আছে। একটা হলো তাদের কাছে লুটপাটের টাকা আছে। আরেকটা হলো দেশি এবং বিদেশি কায়েমী স্বার্থবাদী চক্র। তাদেরকে নিরন্তর মদদ দিয়ে যাচ্ছে।”
গণভোট নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে উপাসনালয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এনজিওদের কাজে লাগনোর বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। সুজন সভাপতি বিচারপতি আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬ | সময়: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ