বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় গৃহবধূ মনিষা খাতুন হত্যার বিচার এবং আসামী গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পিতা-মাতা ও মামা। ঘটনার দুই মাস পর বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বাঘা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মনিষার বাবা মুনসাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন অটো চালক। গত ২০ অক্টবর রাতে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে আমি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরি। এরপর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে অবস্থিত আমার মেয়ে-জামাতার বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মরাদেহ ঘরের বারান্দায় শোয়ানো রয়েছে। এ সময় আমি আমার মেয়ের মুখমন্ডল, শরীর এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন পাই। তবে মেয়ের স্বামী আজাদ আলী ও শাশুড়ি শরিফা বেগম বাড়ি না থাকার কারণে আমার সন্দেহ হয়, ওরা আমার মেয়েকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর পালিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ পাঠায়। এ ঘটনার পর আমার মেয়ের লাশ সন্ধ্যায় দাফন শেষে পরদিন সকালে থানায় গিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে চাই। তখন পুলিশ হত্যা প্ররোচনার অভিযোগ দিতে বলেন। জানান, পোস্টমর্টেম রিপোট এলে তখন মামলা নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত গৃহবধূর পিতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার জামাই পরকিয়ায় লিপ্ত ছিল। মাঝে মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সে আমার মেয়েকে মারধর করতো এবং যৌতুক চাইতো। আমি মেয়ের সুখের জন্য নিরুপাই হয়ে বুরো বাংলাদেশ নামক একটি এনজিও থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ তুলে জামাই এবং তার মায়ের হাতে দিয়েছি।
এ ঘটনার কয়েক মাস পর সে আবারও আমার মেয়ের কাছে যৌতুক চায়। তখন আমার মেয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নির্যাতন করে বলে প্রতিবেশীরা আমাকে জানায়। এর কয়েকদিন পর আমি মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন গৃহবধূর পিতা মুনসাদ আলী, মাতা রুবিনা বেগম এবং গৃহবধূর মামা সাদ্দাম হোসেন। তারা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের লেখনীর মাধ্যমে অবিলম্মে পলাতক দুই আসামীকে আটক সহ ন্যায় বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি যে কর্মকর্তার কাছে ছিল, তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। সম্প্রতি আমার কাছে এসছে। আমি তদন্ত করছি। মা-ছেলে দুই আসামী-পলাতক রয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।