বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: ধানের শীষ হচ্ছে দেশের মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিক। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতির একটি অবিস্বণীয় ও গৌরবোজ্জল দিন। এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে দেশ থেকে বিতারীত করে লাল সবুজের পতাকা ও একটি মানচিত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছিলো। এ জন্য এই মাসটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের ও স্মরণীয় বলে মঙ্গলবার বিকেলে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর হাটে ধানের শীষের প্রচারণা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এই কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, এই ভূখন্ডের জন্য শসস্ত্র সংগ্রাম করতে হয়েছিলো। কিন্তু ঐ সংগ্রামে জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছিলোনা। শুধুমাত্র সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করার ফলে এবং গণতন্ত্রকে চর্চা করার জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিলে। কিন্তু এখন সেই দল ৫আগস্টের পরে বিভিন্ন অফিস ও প্রশাসনকে কয়াত্ব করে আগামী সংসদ নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াব দেখছে। এই স্বাধীনতার মাসের উদ্ধৃতি তিনি বলেন, ঐ আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ন্যায় বিএনপি একতরফা নির্বাচন এ দেশে কোনভাবেই হতে দেয়া হবেনা। সেইসাথে বিএনপি এটাতে বিশ্বাস করেনা। বিএনপি সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমেই নির্বাচন চায় বলে উল্লেখ তিনি।
তিনি দারি পাল্লার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণ আপনাদের খুব করে চেনে। কারণ ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের সময় দেখেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিলম্বিত করেছিলো। শুধু তাইনয় এদেশের মানুষের উপরে চরম আকার নির্যাতন করেছিলো জামায়াত। সেইসাথে নারীদের পাকিস্তানী সেনাদের হাতে তুলে দিতো। এমন কোন খারাপ কাজ নাই যে তারা সে সময়ে করেনি। এজন্য এ দলকে মানুষ আর নতুন করে চিনতে চায়না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, পিআর পদ্ধতি, একবার বলছে সংস্কার আবার একবার বলছে গণভোট। কিন্তু বিএনপি এগুলো অনেক আগেই করে দিয়েছে। বিএনপি যে ৩১দফা রয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে আর কোন কিছুর দরকার নাই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন বলেন, এদেশের মানুষ বীরের জাতী। এই জাতী সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই আসনে আরেকজন মানুষ জামায়াত থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি জনগণের সামনে বলে বেড়াচ্ছেন আর কোন দূর্নীতি তিনি করবেন না। আপনি চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময়ে আপনি দুর্নীতি করেছেন কিনা বিএনপি তা বলেনি। আপনি নিজে নিজে তিনি ধরা দিচ্ছেন। এ থেকেই বোঝা যায় আপনি দুর্নীতি পরায়ন একজন ব্যক্তি। মিলন আরো বলেন, হাট, ঘাট এর ইজারার টাকা ইউনিয়ন পরিষদ এর উন্নয়নের কাজে লাগানোর জন্য সরকার দিয়ে দেয়। আর টাকা কি করেছেন জনগণ তা জানতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্নীতি কখনো উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হতে পারেনা। এটা মানুষের তেলবাজী নয়। দুর্নীতিবাজরা কখনো নির্বাচন করতে পারেনা। বেগম জিয়ার কথা বলতে যেয়ে তিনি বলেন, বেগম জিয়া জীবনে সব থেকে বেশী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি অল্প বয়সের স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। সেইসাথে হারিয়েছেন নিজ বাড়ী। শুধু তাইনয় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে তিলে তিলে মারতে চেয়েছিলো খুনি হাসিনা। বেগম জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ হয়েছে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আর এই সময়েও তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনো দেশে বাসতে পারেনি। কারণ তাঁকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ওয়ান মাইনাস ফরমুলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা কখনো সফল হবেনা। বিএনপি তথা এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনবেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বেগম জিয়া যেন এই ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে পারে সে জন্য তিনি বেগম জিয়ার জন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেউ আবেগে গা ভাসিয়ে দিবেননা। বিএনপিকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি । সেইসাথে বিএনপি নির্বাচিত হলে যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও পারিবারিক কার্ড এবং কৃষি কার্ড প্রাদনসহ নানাবিধ উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি পবা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোকলেসুর রহামন রেন্টু, পবা উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, রাসিক সাবেক কাউন্সিলর সামসুন্নাহার,পারিলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নাহিদ, পবা উপজেলা ছাত্রদলের যুগম্ আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম ও পারিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, মহিলা দল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোিগ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী। এসময়ে পুরো রামচন্দ্র হাট মিছিলে হাটের পরিণত হয়। হাটে আগত সকলেই প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সাদরে গ্রহন করেন এবং ধানের শীষে ভোট প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।