সর্বশেষ সংবাদ :

এক বছরে পৌণে ১৭ লাখ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া : গোপীনাথপুর আইএইচটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাঠদান বন্ধ

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন জয়পুরহাট জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
গত রোববার সকাল দশটার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে দুদিন ধরে পুরো আইএইচটি বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। আবাসিকের শিক্ষার্থীরা রোববার দুপুর থেকে হোস্টেল ছাড়তে শুরু করেন। এতে বাধ্য হয়ে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে শিক্ষকের পাশাপাশি কয়েকজন স্টাফ রয়েছেন। তবে কোন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই। অল্প সংখ্যক ছেলে শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকলেও তারা বাড়িতে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মহিলা হোস্টেলে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত। প্রতিষ্ঠানটি এখনো অর্থনৈতিক কোড পায়নি।
এ কারণে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে আনুসাঙ্গিক ব্যয়ভারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একবছর থেকে সেই বরাদ্দও বন্ধ রয়েছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ আইএইচটি কর্তৃপক্ষকে বার-বার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য চিঠির মাধ্যমে তাগাদা দেয়। বরাদ্দ না থাকায় কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেনি। গত রোববার সকালে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গিয়ে আইএইচটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দুটি টেকনোলজিতে (ল্যাব ও ফার্মেসি) ৪’শ ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী হোস্টেল থাকেন। এখানে দুটি আলাদা হোস্টেল রয়েছে। একটি ছাত্র অন্যটি ছাত্রী হোস্টেল। দুটি হোস্টেল তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আবাসিকে থাকেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। সোলার সিস্টেম থাকলেও সেটি শুরুর পর থেকেই অচল হয়ে পড়ে আছে।
বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় আবাসিকের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছিলেন। একারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আজ সোমবার থেকে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ল্যাব টেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, রোববার সকাল দশটার পর আমাদের আইএইচটির বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একারণে আইএইচটি অর্নিষ্টকালের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমরা নির্ধারিত টাকা দিয়ে এখানে পড়াশুনা করছি। তারপরও আমাদের সমস্যার সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটা আমরা কখনো প্রত্যাশা করিনি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের দাবি করছি।
আরিফা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সামনে পরীক্ষা। এই সময়ে এসে আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হওয়াই আমাদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। অন্ধকারের মধ্যে হোস্টেলে থাকাও সম্ভব নয়। একারণে সকল সহপাঠী বাসায় চলে গেছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, আমরা রোববার দিবাগত রাতে বিদ্যুৎ বিহীন ছিলাম। রাতের বেলায় বহিরাগত ও চোর ঢুকেছিল। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম।
গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল বলেন, এখনো প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক কোড হয়নি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল। গত এক বছর ধরে সেটিও বন্ধ রয়েছে। একারণে প্রতিষ্ঠানের এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি একাধিক বার বিল পরিশোধের তাগাদা দিলেও আমার বিল পরিশোধ করতে পারিনি। একারণে পল্লী সমিতি রোববার সকাল দশটার পর আইএইচটির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছে। একারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ছুটি দিয়েছি। আমরা সমস্যা সমাধানে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আবদুর রহমান বলেন, গত প্রায় এক বছর যাবৎ গোপীনাথপুর আইএইচটি প্রতিষ্ঠানের পৌনে ১৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা তাদের একাধিকবার লিখিতভাবে তাগাদা দেওয়ার পরও তারা বিল পরিশোধ করতে পারেনি। আমরা বাধ্য হয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেছি।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (আর্থিক ব্যবস্থাপনা) ডা. জাহাঙ্গীর রশীদ বলেন, অর্থনৈতিক কোড না হওয়াই শুধু ওই প্রতিষ্ঠানই নয় আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে বিভিন্ন পর্যায়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই পত্রটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আছে। অর্থনৈতিক কোড না পাওয়া প্রতিষ্ঠানের অর্থ কীভাবে ছাড় হবে সেটা অর্থ মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে।


প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ | সময়: ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ