, , ।
স্টাফ রির্পোটার: সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি। সরকার বলছে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। শিশুদের টাইফয়েড রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের শিশুদের এই টিকা দেয়া হবে। সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও টিকাদান কেন্দ্রে বিনামূল্যে এই টিকা দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক জ্বর যা দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। সময়মতো টিকা নেওয়ার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ টিকাদান ক্যাম্পেইন ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কমবয়সি মোট ৫২ লক্ষ ৫১ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। এর ভিতরে রাজশাহী মহানগরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১২৭ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল সকালে স্কুলে স্কুলে টিকা নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মুখর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে বহু কাক্সিক্ষত টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজে বিভাগীয় পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, শিক্ষা বোর্ড স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেই আমরা পোলিও, রাতকানা, গলগণ্ডের মতো রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছি। এই টিকার মাধ্যমে আমরা টাইফয়েড থেকেও মুক্ত হবো ইনশাআল্লাহ।
উদ্বোধন শেষে বিভাগীয় কমিশনার দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষা বোর্ড স্কুল ও কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর টিকা প্রদান প্রত্যক্ষ করেন এবং যত্নের সাথে সব শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিন সকাল ১০টায় বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় রাসিক আয়োজিত টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এইসময় মাদ্রাসারও কয়েকজন শিক্ষার্থীর টিকা প্রদান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার পবা উপজেলাধীন সিলিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা পর্যায়ের টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন,“শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাই তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে হলে টিকাদানের বিকল্প নেই। টাইফয়েড টিকার এই উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা আমাদের আগামী প্রজন্মকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেবে।”
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “এই টিকাদান কর্মসূচি দেশের ইতিহাসে প্রথম। রাজশাহী জেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু-কিশোরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জন্মসনদ নেই এমন শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।” তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা ‘গ্যাভি’র সহযোগিতায়।’’
দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশা, সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়লে বাংলাদেশ খুব শিগগিরই টাইফয়েডমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার ধানাইদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস প্রধান অতিথি হিসাবে এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খুশী রাণী তাম্বলী, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারী সেলিম হোসেন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় এই টিকা পাবে। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা পাবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও। তিনি সকল অভিভাবককে নিজ নিজ সন্তানের টিকাদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নওগাঁ: সারাদেশের ন্যায় নওগাঁতেও শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের চক এনায়েত মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে শিশুকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়। সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক টিএমএ মমিন, রংপুর মেডিকেল কলেজের তত্বাবধায়ক ডা: আখতারুজ্জামান আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলাম আজম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মুনির আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদৎ হোসেন, নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জানানো হয় নওগাঁ জেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫ জন শিশু ও কিশোরকে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্য রয়েছে। এপর্যন্ত অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ জন। শুরুতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র ও পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি পর্যায়ে ১৮ দিন এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বাগাতিপাড়া: সারা দেশের ন্যায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলার জিগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মোঃ রেজওয়ানুল হক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ জামিউর রহমান এবং বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নাজনীন আখতারী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত রেজওয়ানুল হক জানান, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য উপজেলার মোট ২৭০টি কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাভিত্তিক ১২০টি কেন্দ্রে ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ১২০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এ কার্যক্রমের আওতায় বাগাতিপাড়ায় মোট ৩৩ হাজার ২৬১ শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে।
পাঁচবিবি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিরতে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার উচাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বেলায়েত হোসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার পালের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত বক্তব্য রাখেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ হামিদুর রহমান, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলাম ও উচাই বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী।
ডা. তরুন কুমার বলেন, টাইফয়েড একটি পানি বাহিত রোগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন আক্রান্ত করতে না পারে এজন্য সারাদেশে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী উপজেলার প্রায় ৬০’হাজার শিশুকে এ টিকা প্রদান করা হবে।
পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়ায় “টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ টিকা নেবো দল বেঁধে” এই স্লোগান নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯ টার সময় উপজেলার ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। উক্ত ক্যাম্পেইন এর আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা টাইফয়েড টিকা নিতে পারবেন।
এ সময় টিকাদন ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন, পুঠিয়া উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার, শিবু দাস। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ডাঃ সূচনা মনোহরা। পুঠিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোখলেছুর রহমান। বিএনপি নেতা আনছার আলী। ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের আরো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এসময় উক্ত ক্যাম্পেইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রাম: সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে টিসিভি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ।
এ সময় সিভিল সার্জন ডা: স্বপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মুহাইমিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী প্রমুখ।
এছাড়া কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ, জেলা তথ্য অফিসার শাহ জাহান আলী, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলেনুর বেগম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. আতিকুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
পোরশা: উৎসমুখর পরিবেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাজির আহম্মেদ, কুসুমকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজাহান আলী, সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের নেতা ওবায়দুল হক।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে মধুপুর উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় মধুপুর পৌরসভা ও উপজেলায় ৮১ হাজার ৯৫৭ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান ও রোগ তত্ত্ব বিষয়ক চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক সহ অন্যরা।
আত্রাই: নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় আত্রাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় টাইফয়েড ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। নবাগত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মসফিকুর রহমান রাজীব আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. মসফিকুর রহমান রাজীব টাইফয়েড জ্বরকে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই টিসিভি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের টাইফয়েড রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তিনি টিসিভি টিকাকে অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর বলে উল্লেখ করে ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে ডা. মসফিকুর রহমান ( রাজীব), স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকলকে সহযোগিতা করার এবং প্রতিটি শিশুর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সের সকল শিশুকে বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ৯ মাস বয়সী হতে ১৫ বছর বয়সী সকলের জন্য এই টিকা কর্মসূচী চলবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মনসুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযাহারুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী শাহী আলম সোহাগ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শ্যামল কুমার, এমটিইপিআই ভারপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র রেজোয়ান আল মাহমুদ এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স আফরোজা বানু প্রমুখ।