বাঘায় দুর্গা উৎসবে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ালেন যুগ্ন সচিব রথীন্দ্রনাথ

নুরুজ্জামান,বাঘা :

সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা নয় , বরং এটি অর্জিত হয় অধ্যবসায়, পরিশ্রম, শিক্ষা, অধ্যয়ন, আত্মত্যাগ এবং আপনার কাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসার মাধ্যমে। পৃথিবীতে কেউ সাফল্যের চামচ নিয়ে জন্মলাভ করেনা। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করতে হয়। প্রবাদ আছে, ‘পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি’। পরিশ্রমের দ্বারা ভাগ্যের চাবিকাঠি এমনভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, যা অলস মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হলো প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম। তারই একটি উদাহরণ বাঘার কৃতি সন্তান ও বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন-সচিব শ্রী রথিন্দ্রনাথ ।

তিনি প্রতি বছর শারদীয় দুর্গা উৎসবে ঢাকা থেকে নিজ গৃহে ফিরেন । এরপর সকল সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে দিয়ে থাকেন নতুন কাপড় সহ-মনের অকৃত্রিম ভালোবাসা। যার ব্যত্বয় ঘটেনি এবারও। তিনি বৃহস্পতিবার (২-নভেম্বর) দুপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী-সহ মুসলিম সম্প্রদায়ের হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেছেন প্রায় দুই হাজার শাড়ি-লুঙ্গি। একই সাথে বাসায় প্রীতিভোজ এর আয়োজন করেন। এতে অংশ গ্রহন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ-সহ সরকারী কর্মকর্তা বৃন্দ ।তাঁর এই মহানুভবতাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অত্র এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ।

রথীন্দ্রনাথ প্রায়স বলে থাকেন, আমার জীবনে রাজনীতি করার কোন বিলাস নেই। আমি আমার কর্মময় জীবন থেকে এলাকার মানুষকে সেবা করতে চাই।  আমার কাছে দেশের সকল মানুষ সমান। আমার ধর্ম মানবতা । তাঁর এ কথায় শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে রয়েছে চরম গ্রহণ যোগ্যতা , সক্ষতা ও ভাতৃত্ববোধ ।

বাঘার কৃতি সন্তান ও সকলের গর্ব রথীন্দ্রনাথ প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এবং সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় ,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজ গ্রাম, বাঘা উপজেলার নারায়পুরে এসছেন । তাঁর বাড়ীর পাশেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা নারায়নপুর কেন্দ্রীয় শারদীয় দুর্গা  উৎসব।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ব প্রধান এবং সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত  ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আজ  ২ অক্টোবর মহাদশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই দাবি করেছেন, গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর, এক ধরনের ভয় ও শঙ্কা ভেতরে কাজ করলেও কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বাঘা পুজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী-অসিত কুমার ওরুপে বাকু পান্ডে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ে ধর্মীয় ভাবে শারদীয় দুর্গোৎসবকে অকাল বোধন বলা হয়। অর্থাৎ অকালে দেবীদুর্গাকে জাগানো হয়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, পুরো বছরকে উত্তরায়ন এবং দক্ষিণায়ন এই দুটি কালে ভাগ করা হয়। মাঘ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত উত্তরায়ন এবং শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত সময়কে দক্ষিণায়ন কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উত্তরায়ন কালে দেবদেবীদের জাগ্রত কাল এবং দক্ষিণায়নে দেবদেবীর নিদ্রাকাল। শ্রী রামচন্দ্র মহাশয় ,যুদ্ধের প্রয়োজনে অকালে দেবীকে বোধন অর্থাৎ স্তব-স্তুতির মাধ্যমে জাগরণ ঘটিয়ে দুর্গাপূজা করে ছিলেন। এ কারণে শারদীয় দুর্গাপূজাকে অকাল বোধন বলা হয়। দেখা যায় দেবীকে নিদ্রা থেকে জাগানোর জন্য বেলতলায় মহাদেবের স্তবকের অনুমতি নিয়ে বোধন ঘটাতে হয়।

অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক অপুর্ব কুমার সাহা বলেন, দুর্গা প্রতিমার স্ব-চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় , মা’ দুর্গা মহিষাসুরের সঙ্গে ধুন্ধুমার লড়াই করছেন, অথচ তার ছেলে-মেয়েরা নিতান্ত উদাসীন ভাবে পাশে দাঁড়িয়ে। সুদর্শন কার্তিক তার অস্ত্র তোলেন না , গণেশের মুখে তো একটা হাসির আভাস , লক্ষী নিজের ঝাঁপিটা আরও শক্ত করে চেপে ধরেন, সরস্বতীও বীণা হাতে দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে এই অদ্ভুত দৃশ্যের অর্থ বুঝতে হলে ইতিহাসের পাতায় নজর দিতে হবে।

এদিকে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ পূর্ব  সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় যুগ্ন  সচিব রথীন্দ্রনাথ বলেন, আমার কোন রাজনৈতিক বিলাস নেই। আমি আমার সীমিত সাধ্যের মধ্যে মানুষের কল্যানে কাজ করতে চাই। সংস্কৃতি, শিক্ষানীতি, যুবনীতি সবকিছুর পেছনে যেমন অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্খা প্রতিয়মান। তদরুপ সম্মান, পুরস্কার প্রাপ্তি, খ্যাতি, মত্তা ও ভাল কাজের স্বীকৃতির মূলে কাজ করে একজন অফিসারের সততা । আমার উদাহারণ আমি নয়, আমার উদাহারণ আমি যেসব এলাকায় চাকরি করেছি সেইসব এলাকার মানুষ। যারা এখনও আমাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরো বলেন , সফল মানুষের সাথে অসফল মানুষের প্রধান পার্থক্য শক্তি বা জ্ঞান নয়। পার্থক্যটা হলো, সত্যিকার সফল হওযার ইচ্ছে । সাফল্যের জন্য আপনাকে মূল্য দিতে হবে ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায়, আর স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেখার জন্য ব্যর্থতার পরও কাজ করে যাওয়া। আমি এমনটি লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি কখনো কোন কাজে বিচলিত(নিরাশ)হয়নি। আমি আমার সম্প্রদায়কে বলতে চাই, হিংসা-বিদ্দেশ ভুলে সবাই নিরুপদ্রপে ইচ্ছেমতো পূজার আনন্দে শামিল হতে পারলে উৎসব তার প্রকৃত তাৎপর্য ফিরে পাবে। আর এখান থেকেই নতুন করে আগামী এক বছর চলার শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে মানুষ আবার নতুন করে জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে। সংসারের সব অসুরকে হারিয়ে নতুন এক উজ্জ্বল, উচ্ছল জীবনবোধে উদ্বেল হয়ে শুরু হবে নতুন করে পথচলা। সকলের প্রতি আমার এটি চাওয়া এবং কাম্য।

উপহার পাওয়া শ্রীমতি অঞ্জনা সাহা বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ে অনেক ধনী মানুষ আছে। তবে রথীন্দ্রনাথ একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি সকল ধর্মের মানুষকে সমান ভাবে ভালোবাসেন। এ জন্য আমরা গর্ববোধ করি এবং ভগবানের কাছে তার জন্য দোয়া চাই।

বাঘার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন রথীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বলেন, সফলতার উক্তি আমরা প্রায়ই খুঁজে থাকি , যেনো আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে সফলতা সম্পর্কে ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারি। কিংবদন্তীরা হয়তো জানতেন, আমরা সফলতার উক্তি খুঁজবো, তাই তো তারা প্রতিনিয়তই এর সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন ।

আমার জানা মতে, প্রত্যেক সফল ব্যক্তির সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিলো কঠোর পরিশ্রম। এ দিক থেকে আমাদের রথীন্দ্রনাথ তার জীবনে অনেক পরিশ্রম ও সংগ্রাম করে আজ এ পর্যায়ে পৌছেছে । আমার বিশ্বাস তিনি সামনের দিন গুলোতে নিজের সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে আরো উচ্চতর পর্যায় পৌছবে এবং মানুষের সেবা ও কল্যানে নিজেকে উজাড় করে দিবে, এটায় আমার প্রত্যাশা ।


প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৫ | সময়: ১২:২৫ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine