বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
শাহালাল ইসলাম,ডিজিটাল :
প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবতীকে গণধর্ষণের মামলার মূলহোতা আসামি আরিয়ান শাফী সহ ৩ জনকে রাজশাহী মহানগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫।
আজ রবিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের অভিযানে নগরীর চন্দ্রিমা থানার উজিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম একজন ২২ বছরের যুবতী মেয়ে। মামলার মুলহোতা আসামি আরিয়ান শাফী (২৬) এর সাথে
ভিকটিমের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়।
ফেসবুকে কথা বার্তার একপযার্য়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং ৩০/০৮/২০২৫ তারিখে বিকাল অনুমান ৫টার সময় মুলহোতা আসামি আরিয়ান শাফী ভিকটিমকে
তার সাথে দেখা করার কথা বলে রাজশাহী মহানগরের মতিহার থনাধীন ভদ্রা র্রীজের উপর ডাকে।
ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তার সাথে দেখা করার জন্য উক্ত স্থানে গেলে আসামি আরিয়ান শাফী তার বন্ধুর বৌ এর জন্মদিনের কেক কাটার কথা বলে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে ভিকটিম তার সাথে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে।
এক পর্য়ায়ে আসামির অনুরোধে ভিকটিম যেতে রাজি হলে রিক্সা
যোগে ইং ৩০/০৮/২০২৫ তারিখে বিকাল অনুমান ৬ টার সময় রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থনাধীন কুমরপাড়া আলুপট্টি
মোড়স্থ পদ্মা মন্দিরের সামনে মামলার এজাহারনামীয় ৪ নং আসামি আজোয়াদ আব্দুল্লাহ এর বসত বাড়ির দক্ষিণ উত্তর পাশের রুমে
প্রবেশ করলে ভিকটিম পূর্ব থেকে অবস্থান করা আসামি শান্ত ও পিয়াম কে দেখতে পেয়ে তাদের কথা জিজ্ঞাসা করলে ৪ নং আসামি
আজোয়াদ বাহিরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়।
মামলার মুলহোতা আসামি আরিয়ান শাফী প্রথমে ভিকটিম কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণকরে। পরবর্তীতে ২ ও ৩নং আসামি ভিকটিম কে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ভিকটিমকে তারা হুমকি
ধামকি দেয় যে, এই কথা যদি বাইরে গিয়ে বলে তবে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে রিক্সায় তুলে দেয়।
পরবর্তীতে ০৩/০৯/২০২৫ তারিখে আসামি মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায় তার সাথে দেখা না করলে তার ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে।
উক্ত ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম বাদী হয়ে আরএমপি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় আসামীগণের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
যাহা বোয়ালিয়া থানার মামলা নং-১০,-০৪/০৯/২০২৫ খ্রিঃ। ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০২০) এর ৯(৩)।
ঘটনাটি দেশব্যাপী প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৭/০৯/২০২৫ তারিখ ০৫:৫০ ঘটিকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি, র্যাব-৫ এর একটি
আভিযানিক দল তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনপত্রের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে চন্দ্রিমা থানাধীন উজিরপুর এলাকা হতে উক্ত
গণধর্ষণ মামলার এজারনামীয় আসামি আরিয়ান শাফী, আরিফ (২৬), পিতা-মোঃ সাজ্জাদ আলী, সাং-উজিরপুকুর, ২। শান্ত
(২৫), পিতা-মোঃ আলম, সাং-ভদ্রা জামালপুর, উভয় থানা-চন্দ্রিমা, ৩। পিয়াম (২৫), পিতা-মোঃ আসিফ হাসান সোহেল, সাং-
কাদিরগঞ্জ গ্রেটাররোড, থানা-বোয়ালিয়া, মহানগর রাজশাহীগন’কে গ্রেফতার করে।
আসামীগণকে উক্ত ধর্ষণ মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সত্যতা স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার গণধর্ষণ মামলা মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সানশাইন /শামি