বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: চাকরি জীবনের শেষ পর্যন্ত বিনা বেতনেই সেবা দিয়ে অবসরে গেলেন জয়পুরহাটের মাদরাসা শিক্ষক আবু তাহের। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, দায়িত্ব পালন করলেও কখনোই মাসিক বেতন পাননি। আর এ বাস্তবতা শুধু তার একার নয়, জেলার আরো ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর।
তেঘর বিশা ডি. এস দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবু তাহের বলেন, আমি ১৯৯৫ সালে এই মাদরাসায় যোগদান করি। গত ২০২৪ সালের ২৮ জুন অবসরে যাই। কিন্তু পুরো চাকরি জীবনে এক দিনের জন্যও সরকারি বেতন পাইনি। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় এসেছিলাম। মনে করেছিলাম হয়তো একদিন বেতন-ভাতা সবই পাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৮ বছর ধরে বিনা বেতনেই চাকরি করে গেলাম। আজ সব শেষ।
জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। শুধু তাই নয়, জয়পুরহাট জেলার এমন ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো এখনো নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষক-কর্মচারীরাও সরকারের কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন।
কালাই উপজেলার কালাই টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম মহিলা কলেজের প্রভাষক হাবিবুল হাসান বলেন, ২০০৯ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছি। ১৭ বছর ধরে ক্লাস নিচ্ছি, কিন্তু এখনো কোনো বেতন পাই না। উপজেলার মোলামগাড়ী আদর্শ কলেজের প্রভাষক খলিলুর রহমান বলেন, চাকরিতে থাকা অবস্থায়ই অনেকের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবু এমপিওভুক্তির কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। এখন মনে হচ্ছে, আমাকেও হয়তো এমন বিনা বেতনেই অবসরে যেতে হবে।
এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী মনোয়ারুল হাসান বলেন, এমপিওভুক্তি একটি নীতিমালা ভিত্তিক প্রক্রিয়া। কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো এখনো সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, সরকারি এমপিওভুক্তির একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন এমপিওভুক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।