বন্যায় মাছ শিকারের দেশীয় সরঞ্জাম বিক্রির ব্যাপক সাড়া

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: বাগমারা ও আশেপাশের এলাকায় নদ-নদীতে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় মাছ শিকারের খৈলসান, দারকি, ধিয়ালা সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রির ধুম পড়ছে। স্থানীয় হাট বাজারগুলোতে এসব সামগ্রীর চাহিদা এখন বেড়েছে। এলাকার অভাবী মানুষেরা পুরো বর্ষা মৌসুমে এসব দেশীয় মাছ ধরার সামগ্রী কিনে সেগুলো দিয়ে মাছ শিকার করে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করে সংসার নির্বাহ করে। অনেকে এসব সামগ্রী তৈরি করে সংসার চালায়।
সরেজমিনে উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উপলারার তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, মচমইল ও হাটগাঙ্গোপাড়া সহ বিভিন্ন হাটে এখন মাছ ধরার দেশীয় সরঞ্জাম বিক্রির ধুম পড়েছে। এসব সামগ্রীর জন্য বিখ্যাত হাট হিসাবে পরিচিতি রয়েছে বাগমারার তাহেরপুর ও পাশ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ হাট।
এসব হাটে পাইকারি ও খুরচা ভাবে এসব সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে। মাছ শিকারের বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কমবেশি তৈরি হলেও এসব সামগ্রীর জন্য ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরএকডালা গ্রাম। হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই গ্রামের প্রায় পঞ্চাশটি পরিবার মাছ ধরার বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা এই পেশায় থেকে গ্রামের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। সেখানে আর মাটির বাড়ি খুঁজে পাওয়া যায় না। সবাই ছোট বড় সাইজের ইটের বাড়ি তৈরি করেছে। এই গ্রামের রঞ্জিত সেন ও মাধব কুমার বাপ দাদার আমল থেকে এই পেশায় জড়িত।
তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে। আকার ভেদে এক জোড়া দারকি (খৈলসান) এর দাম ৬শ থেকে ৮শ টাকা। কখনও কখনও আরো বেশি। বাঁশের দাম কমা বাড়ার সাথে এসব সামগ্রীর দাম উঠা নামা করে।
তাহেরপুর হাটে দারকি ক্রেতা শহিদুল জানান, শ্রীপুর গ্রামে তার বাড়ি। বাড়ির পাশে বারনই নদী ও বিল রয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমে নদী ও বিলে পানি এসেছে। এখন ক্ষেত খামারে তেমন কাজ থাকে না। এই সময় অলস বসে না থেকে এসব দেশীয় সামগ্রী দিয়ে মাছ শিকার করে তা নিজের বাড়িতে খাওয়া হয় এবং বেশি মাছ হলে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়া যায়।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান, চাইনা জাল সহ বিভিন্ন কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করার চাইতে বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী দিয়ে মাছ শিকার করা অনেক উত্তম। এতে বিভিন্ন জলজ প্রাণী রক্ষা পায় যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।


প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৫ | সময়: ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ