বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: প্রতারক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাগর আহম্মেদ নামের এক ভুক্তোভোগী। তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার দুপুরে বাগমারা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত পুলিশের সহ উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন বাগমারা গ্রামের সানা মিয়ার ছেলে। অপর দিকে সাগর আহম্মেদ একই গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে।
ভুক্তভোগি সাগর আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্ট্রিগেশন (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত সহ উপপরিদর্শক (এএসআই) সাদ্দাম হোসেন তৎকালীন ঢাকা মানিকগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্যের বিশ্বত্ব হওয়ায় গত ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একই গ্রামের সাগর আহম্মেদকে কাজের জন্য দুবাই পাঠিয়ে দিবে বলে নগদ ৪ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। টাকা গ্রহনের পর সাদ্দাম হোসেন সাগর আহম্মেদকে ফ্রি ভিসা দিয়ে দুবাই পাঠিয়ে দেন। সেখানে সাগর আহম্মেদ নিদাহাদি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস কোম্পানিতে চাকুরী নেন।
চাকুরী করলেও তিনি কোম্পানী থেকে কোন বেতন ভাতা পেতেন না। সেই সময় ভুক্তভোগী সাগর আহম্মেদ ফোনে সাদ্দাম হোসেনের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তার ব্যবহৃত ফোনটি রিসিভ করতেন না। বেকাদায় পড়ে সাগর আহম্মেদ অনেক কষ্টের পর বিষয়টি তার বাড়িতে জানালে তারা বাড়ি থেকে টাকা পাঠিয়ে তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনে।
সাগর আহম্মেদ বাড়িতে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মিমাংসার জন্য সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে বসলে তিনি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন মিমাংসায় ব্যর্থ হলে গত বছরের ২২ অক্টোবর সাগর আহম্মেদ টাকা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কোন কাজেই আসে না। বরং সাদ্দাাম হোসেন ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসলে সাগর আহম্মেদকে মারপিট ও হত্যা সহ বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
কোন ভাবেই সাগরকে বাগে আনতে না পেরে সাদ্দাম হোসেন এবার মানিকগঞ্জ সিংগাইর থানার গলাইডাঙ্গা গ্রামের আদম ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলামকে (৩৩) দিয়ে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দাবী জানিয়ে মানব পাচার অপরাধ দমনে একটি মামলা দায়ের করেন। নিজের স্বার্থসিদ্ধীর জন্য মামলাটি নিজের দপ্তর (পিবিআই) কে তদন্তের দায়ীত্ব নেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন ভাবে সাহর আহম্মেদকে হয়রানী করছেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন। তিনি উভয় মামলাটির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন।