বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
আনোয়ার পারভেজ, নাটোর: নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জেলা শহর, সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-২ আসন। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার জন্য কোন দৌড়ঝাপ নেই। দুই দলেই রয়েছে একক প্রার্থী। তিন লাখ ৮৪ হাজার ২৯জন ভোটারের এই আসনে দুজনই যার যার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দুটি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত জনসমাবেশ ছাড়াও নানা ভাবে নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। দলের নেতাকর্মীরা তাদের দল ও প্রার্থীর জন্য মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শিল্পপতি আবুল কাশেম বর্তমানে কিছু তৎপরতা চালালেও জেলা বিএনপিতে তার অনুসারী নেতাকর্মী খুবই কম।
নাটোরের বিএনপিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক উপমন্ত্রী এই আসন থেকে বার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর কথাই এখানে দীর্ঘ দিন থেকে শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তিনিই এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
নলডাঙ্গা উপজেলার রামশার কাজিপুরে ১৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট মামলায় তার সাত বছরের দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি গত দুটি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। সেই দুটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন তার সহধর্মীনি তৎকালীন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি।
চলতি বছরের শুরুতে আদালতে আপীলের রায়ে দুলুসহ ৬৮জন দন্ডপ্রাপ্তকে খালাস প্রদান করায় এখন আর তার নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোন বাঁধা নেই। ফলে নাটোর সদর আসনে এবারো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশাী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এ ছাড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শিল্পপতি আবুল কাশেম আগামী নির্বাচনে এখানে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইবেন বলে তার অনুসারীরা প্রচার প্রচারনা শুরু করেছেন। তবে এখনো নাটোরের বিএনপিতে তার অনুসারী নেতাকর্মীর সংখ্যা খুবই কম বলে মনে করেন সাধারণ ভোটারেরা।
নাটোর জেলা বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মীর দুলুর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন রয়েছে জানিয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন বলেন, নাটোরের বিএনপিতে অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুই শেষ কথা। তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। জেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মীর দুলুর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন রয়েছে। দুলুর সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো অন্য কোন দলে কোন নেতা নেই বলেও তিনি দাবী করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দুলুর প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন দুলুই বিজয়ী হবেন বলে তারা বিশ্বাস রাখেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক সচিব রহিম নেওয়াজ বলেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ লুটপাট ছাড়া নাটোরের কোন উন্নয়ন করেনি। নাটোরের যত উন্নয়ন, স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট সব করেছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি মন্ত্রী থাকার সময় দল মতের উর্দ্ধে উঠে জেলার উন্নয়ন করেছেন। তাই নির্বাচন আসলে নাটোরের মানুষ দুলুকে উজার করে ভোট দিতে কোন কার্পন্য করবে না।
তিনি বলেন, দুলু জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সকল অঞ্চলে নিয়মিত সভা সমাবেশ করছেন। এসব সভা সমাবেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ সব সমাবেশই বিএনপি ও দুলুর জনপ্রিয়তা জানান দিচ্ছেন।
অপরদিকে নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বাগতিপাড়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ইউনুস আলীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তিনিও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিয়োমিত বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ করে প্রচার চালাচ্ছেন।
চলতি বছরের শুরুতেই নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকে নিয়ে বিশাল জনসমাবেশ করে নিজের দলের অবস্থানের জানান দেন তিনি। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর কাছে খুব সামান্য ভোটে পরাজিত হয়ে নাটোরে সাড়া ফেলেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী। পরবর্তি কোন নির্বাচনে অবশ্য তিনি আর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন এবারও ভোটের মাঠে অধ্যাপক ইউনুস আলী ভালো কিছু করবেন।
নাটোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ড. মীর মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে অনেক আগেই অধ্যাপক ইউনুস আলীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় জামায়াত। প্রার্থীসহ সকল নেতাকর্মীরা মাঠে ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা সবচেয়ে নির্যাতিত হয়েছেন। তাই সাধারণ ভোটাররা এবার জামায়াতের প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।
এদিকে ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন গত সাড়ে ১৫বছর ধরে নাটোর সদর আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি আহাদ আলী সরকার ও শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং তাদের অনুসারীরা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীরাও রয়েছেন আত্মগোপনে। এ ছাড়া অন্য কোন দলের কোন মনোনয়ন প্রত্যাশীর এখনো নাটোরের ভোটের মাঠে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।