বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: মিয়াজাকি, কিং অব ব্রুনাই, চাকাপাত সহ ৫০-এর বেশি জাতের আম, জামরুল, করমচা, ডেউয়া, কাঁঠাল, খেজুর, কদবেল, বাতাবি লেবু, তরমুজ, নারিকেল সহ নানা জাতের দেশী-বিদেশী ফলের সমারোহ। এ দৃশ্য নওগাঁ কৃষি খামারবাড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় চত্বরে। দেশী-বিদেশী নানা প্রজাতির ফল নিয়ে সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ’২৫।
জাতীয় ফল মেলার এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘দেশী ফল বেশী খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’। তিন দিনের এই ফল মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে প্রায় দেড়শ প্রজাতির দেশি-বিদেশী ফল। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ফলের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ছাড়াও ফল চাষের পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন। তিন দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হবে আগামী শনিবার।
সকাল ১০টার দিকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদিন, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলম উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় মানুষের খাদ্যভাস। ফল খেলে মানবদেহে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণ হয়। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সবার উচিত নিয়ম করে প্রতি ঋতুতে মৌসুমী ফল খাওয়া। মানুষকে ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এবং ফল খেতে আগ্রহী করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশী-বিদেশী প্রায় দেড়শ প্রজাতির ফলের সমাহার ঘটানো হয়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর রউফ দুই মেয়েকে নিয়ে এই মেলায় আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এ রকম একটি ফলমেলায় মেয়েদের নিয়ে আসার। এখানে এসে নানা জাতের ফল দেখে ওরা ভিষণ খুশি হয়েছে। অনেক ফল দেখেছে, যা জীবনে ওরা প্রথম দেখলো। আমিও নিজেও অনেক ফল আগে দেখিনি এমন ফল দেখলাম।’
আব্দুর রউফের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়া আক্তার বলে, ‘দেড় কেজি ওজনের আম দেখলাম। এত বড় আম কোনো দিন দেখি নাই। সেই আমের নাম কিং অব চাকাপাত। এমন জীবনে শুনি নাই। এছাড়া আরও ফল দেখলাম, যেগুলোর অনেকগুলোই আমি আগে কখনো দেখিনি।’