সর্বশেষ সংবাদ :

বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিক বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রম

স্টাফ রিপোর্টার: এদেশের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশই নারী। নানা ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা বলা হলেও বাস্তবে নারী শ্রমিকদের অবস্থা আজও করুণ। অন্যদিকে বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রম। জীবিকার তাগিদে এখনো শিশু-কিশোররা নিযুক্ত হচ্ছে ভয়ংকর সব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজশাহীর সপুরা এলাকায় মুখে অবসন্নতা আর হাতে ক্লান্তির রেখা নিয়ে রাস্তার কাজ করছেন রোকেয়া বেগম ও সুলতানা আক্তার নামে দুই নারী শ্রমিক। পাশে শ্রম দিচ্ছে অনিক নামে পনেরো বছরের এক শিশু, যে প্রতিদিন ইট-পাথরের সঙ্গে যুদ্ধ করছে জীবনের তাগিদে। পুরুষ শ্রমিকরা যেখানে প্রতিদিনের মজুরি পাচ্ছেন ৫০০ টাকা, সেখানে নারী শ্রমিকরা পাচ্ছেন মাত্র ৪০০ টাকা।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে দিনমজুরির কাজ করে আসছেন রোকেয়া বেগম। কষ্টের গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ছেলে মানুষের মতো আমরাও সমান পরিশ্রম করি, তবুও তাদের চেয়ে কম মজুরি পাই। পেটের দায়ে সব সহ্য করি। আমাদের তো আর বিকল্প কোনো সুযোগ নেই।
দিনমজুর সুলতানা আক্তারও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শরীর অসুস্থ হলেও কাজে আসতে হয়। আমরা তো পুরুষের মতো শক্তিশালী না, তাই কম মজুরি পাই। বেশি টাকা চাওয়ার সাহসও হয় না, যা দেয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
রাস্তার কাজের দায়িত্বে থাকা আনোয়ারুল হক বলেন, নারীরা ছেলেদের তুলনায় কম কাজ করতে পারে, তাদের শারীরিক সমস্যাও থাকে। তাই বেতনও কম। আসলে তাদের কাজে নিলে আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়, কিন্তু মানবিক কারণে নিয়োগ দিতে হয়। আর ওই বাচ্চা ছেলেটা নিজেরাই এসে বারবার অনুরোধ করেছিল, তাই নিয়েছি। সবাইকে সমান মজুরি দিলে আমাদের লোকসান হয়ে যাবে।
শিশু শ্রমিক অনিক হাসান জানায়, গত বছর বাবা মারা গেছেন, মা অসুস্থ আর বোন বড় হয়েছে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছি, এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। এখন ইট টানাই আমার জীবন।
নগরভবন মোড়ে মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করা ১৬ বছর বয়সী হাবিবুল বাশারও শৈশব হারিয়ে জীবিকার সন্ধানে নেমেছে। তিনি বলেন, আগে স্কুলে যেতাম। বাবা পরে এখানে কাজে দিয়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। প্রতি মাসে ৮ টাকা পাই, এর মধ্যে অধিকাংশ বাসায় দিতে হয়। বাকি টাকা দিয়ে চলি।
নগর ভবনের মোটর গ্যারেজে কাজ করে টিপু নামে এক শিশু। যার বয়স ১০ বছর। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি কাজে লেগেছি। মা পরের বাড়ি কাজ করে।
এ বিষয়ে ‘আল আমিন মোটরস’ এর মালিক মো. আল আমিন হোসেন বলেন, বাশারকে আমি ইচ্ছে করে রাখিনি, ওর বাবা নিজে এসে অনুরোধ করেছেন। তাই সাধ্যের মধ্যে কাজ দিই। ও যা পারে, শুধু তা-ই করতে বলা হয়।


প্রকাশিত: May 21, 2025 | সময়: 4:28 am | সুমন শেখ

আরও খবর