সর্বশেষ সংবাদ :

ভিন্নধর্মাবলম্বীদের নিয়ে জামায়াতের সম্মিলন সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মতবিনিময় ও সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সম্প্রদায়গত সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রোববার বিকেলে পুঠিয়া বালিকা বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মনজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমার নিয়োগী, হিন্দু কল্যাণ ও সংস্কার সমিতির সভাপতি গুরুপ্রসাদ দাস এবং সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সরকার।
পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আলী মির্জার সঞ্চালনায় জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মনসুর আলী, জিউপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাকিব, জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন, আব্দুল আহাদ মন্টু, আব্দুল মজিদ, জুবায়ের মাসুম সহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আবহকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলেছে। বাংলা ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অবদান ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে লেখা রয়েছে। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আগামীতেও এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে জামায়াতে ইসলামী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতাই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
সভায় সনাতনী ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে জামায়াতের সাম্প্রতিক গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জাতীয় স্বার্থ ও সমাজ কল্যাণে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ দেশের জন্য মঙ্গলজনক।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র। এখানে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারা আরও বলেন, রাজনীতি ও ধর্মকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মতভেদ ভুলে গিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি উন্নত সমাজ গঠনে এ ধরনের সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনের শুরুতেই প্রধান অতিথি মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে পুঠিয়া কারিগরি কলেজ, পুঠিয়া দাখিল মাদ্রাসা, পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঝলমলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
তিনি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। মতবিনিময় ও সম্প্রীতি সভা পুঠিয়া উপজেলায় ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


প্রকাশিত: May 19, 2025 | সময়: 3:42 am | সুমন শেখ

আরও খবর