রাজশাহীতে নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবে ‘শিখা প্রকল্প’

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবে ‘শিখা প্রকল্প’। যা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, হয়রানির প্রতিরোধ এবং প্রতিক্রিয়া জোরদার করে ব্যক্তিগত ও জনপরিসরে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে। আগামী চার বছরে প্রকল্পটি রাজশাহীসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বাস্তবায়িত হবে। এই জেলায় ৯টি উপজেলার ৬০টি স্কুল ও ৪টি ইউনিভার্সিটি নিয়ে কাজ করবে।
বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিখা প্রকল্প’র ইনসেপশন মিটিংয়ে এসব কথা জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক মো. মহসিন আলী। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মির্জা ইমাম উদ্দিন, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো: জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোহা. যোবায়ের হোসেন।
শিখা প্রকল্পের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার সমান অধিকার থাকবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকে শুধু মাত্র নারীর সমস্যা হিসেবে দেখে না। বরং মানবাধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত করা হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের পরিবর্তন তখনই আসবে যখন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা ব্যক্তিগতভাবে নারী-পুরুষের সমতার গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।
ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক মো. মহসিন আলী বলেন, ব্লাস্ট ও ইপসা’র সহযোগিতায় শিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিসর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ পরিবেশ গঠনের পাশাপাশি এই উদ্যোগটি আইনি সংস্কারের পক্ষে সুপারিশ প্রণয়ন, কার্যকর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জোরদার এবং ক্ষতিকর সামাজিক রীতি ও লিঙ্গগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
এসময় শিখা প্রকল্পের কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিখা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন শিখা প্রকল্পের ট্রেইনিং স্পেশালিস্ট মো. নুরুল হক। এ সময় তিনি বলেন, ব্র্যাকের শিখা প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রাজশাহী জেলায় পরিচালিত হবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৯ মেয়াদী এ প্রকল্পের লক্ষ্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা। বিশেষত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, তৈরি পোশাক কারখানা ও অনলাইন প্লাটফর্মে যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে কাজ করবে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি ২৫০টি স্কুল ও ২০ টি ইউনিভার্সিটি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আরএমজি সেক্টর, গণপরিবহন ও স্থানীয় কমিউনিটিতেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক এটিএম গোলাম মাহবুব, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, ব্র্যাক শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ইসতিয়াক জাহান সোয়েফ, অপারেশন ম্যানেজার সৈয়দ আমিন আল আনাছ এছাড়াও শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. সাবির হোসেন, মোতালেব হোসেন ও মোছা. আফরোজা খাতুন, ফিল্ড কমিউনিকেটর পংকজ কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৫ | সময়: ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর