ঔষধ স্বল্পতায় ভুগছে রাজশাহীর ২৪৫ কমিউনিটি ক্লিনিক!

ইমাম হোসেন, ডিজিটাল-

রাজশাহী জেলায় প্রায় ২ শত ৪৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ পেয়ে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষরা। কয়েক মাস ধরে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে তেমন আর ঔষধ সরবরাহ না থাকায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে গ্রামের গরীব ও অতি সাধারণ মানুষদের। অনেকেই টাকার অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না। অন্যদিকে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ঔষধের যোগান না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষেরা। গ্রামের অতি দরিদ্র মানুষের ঔষধ চিকিৎসার একমাত্র ভরসার জায়গাই হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু এসব ক্লিনিকে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে হতাশ ও মাঝে মধ্যে বাকবিতন্ডায় জড়াচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে ওষুধের জোগান না থাকায় অসহায়তের ছাপ দেখা গেছে ক্লিনিক গুলোতে দায়িত্বে থাকাদের। আবার কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে চাকরি করা অনেকের বেতন আটকে আছে কয়েক মাস পর্যন্ত। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ কবে হবে তা জানা নেই কারোরই। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগেও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির রয়েছে স্বল্পতা অন্যদিকে ফুরিয়ে গেছে ডিডিএস কিট ২৩ আইটেমটিও। সব মিলে গ্রামের অতি দরিদ্র মানুষের ভরসার স্থলে এসে আশাহত হয়ে ফিরতে হচ্ছে বাসায়। তবে কিছুটা ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানেও অতি জরুরী ডায়াবেটিস ও প্রেসারের ওষুধও পুরোপুরি শেষ।

 

 

ঔষধ নিতে আসা একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা হয়। সেলিনা বেগম নামের এক নারী বলেন, যেই ওষুধ নিতে এসেছিলাম সেই ওষুধ এখানে নেই। অথচ আগে পাওয়া যেত। কবে পাবো তার ঠিক নেই। কেনার মত সামর্থ্য নাই। পুঠিয়া এলাকার পায়রা বেগম নামের আরেক নারী বলেন, ঔষধ নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছি। আগে দিচ্ছিল এখন নাই বলে তাড়িয়ে দিচ্ছে। সেন্টু হোসেন নামের এক রোগী বলেন, আমাশয় ও ঠাণ্ডার ঔষধ নিতে এসেছিলাম এখানে না থাকায় তা পেলাম না। যেসব ওষুধ নিতে এসেছি সেসব পেলাম না অন্য ওষুধ নিয়ে গেলাম।

 

 

পুঠিয়া অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বিপাশা খাতুন তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ডিডিএস কিট শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও ঔষধের পুরোপুরি জোগান না থাকায় আমরা কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানানো হচ্ছে খুব দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

 

 

মোছাঃ দিলারা খাতুন, পুঠিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, তিনি বলেন আমাদের ওষুধের ঘাটতি রয়েছে সত্য কথা তবে ডিডিএস কিট ২৩ আইটেম পুরোপুরি শেষ। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধানের।

ডাঃ মোঃ রাশেদুল হাসান শাওন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তিনি জানান, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছুটা ওষুধ পাওয়া গেলেও, ওষুধের জোগান না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে নানান কারণে ঔষধের যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

ডাঃ এস আই এম রাজিউল করিম, সিভিল সার্জন রাজশাহী জানান, বর্তমানে ওষুধের যোগান একটু কম। কবে নাগাদ এই ঔষধ স্বল্পতা স্বাভাবিক হবে তা আমার জানা নেই। তবে চেষ্টায় আছি যত দ্রুত বিষয়টি স্বাভাবিক করা যায়। এরই মধ্যে কিছু ঔষধ এসেছে স্যাম্পল হিসেবে। আশা করছি খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

সানশাইন /ইমাম/শামি


প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৫ | সময়: ১১:৩২ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর