বাঘায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া বৃদ্ধকে নিয়ে যা জানা গেলো

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্নহত্যা করা বৃদ্ধ মীর রুহুল আমিন (৬০) এর মৃত্যু নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। তার মনে যা চাই তা করেন। কারও কথা শোনেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন। যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মীর রুহুল আমিন। তিনি বাউসা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে অনেকেই বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছেন। এতে ব্যথিত হয়েছেন নিহতের পরিবার ।
রুহুল আমিনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ঘটনার পরদিন বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে কথা হয় ছেলে মীর মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মানষিক প্রতিবন্ধী। এক জেদি মানুষ। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, তিনি কারও কথা শোনেন না। মনে যা চাই সেটায় করেন। ঘটনার দিন বাবা আড়ানী স্টেশন বাজারে গিয়েছিলেন পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। তারমধ্যে তিনি পেঁয়াজ ঢেকে রাখার জন্য পলিথিনও কিনেছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন বাবার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানে বাবাকে না খেতে দিয়ে ছেলের বৌ-দের দ্বারা নির্যাতন, মেয়ে বাবাকে দেখেনা ইত্যাদি লিখা হয়েছে। আসলে প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাবা-মার দুই সন্তান আমরা। বড় বোন মৌসুমী আক্তারের ২০ বছর আগে বিয়ে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বোন শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। আর আমি চাকরির সুবাদে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকি। বাবা-মা থাকেন গ্রামের বাড়িতে। তিনি একজন মানষিক প্রতিবন্ধী ।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক এনামুল হক বলেন, রুহুল আমিন একজন সহজ সরল মানুষ। কম কথা বলেন। এক জেদি মানুষ। তার মৃত্যু নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। এটা ঠিক করেনি। প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে। তার পরে না হয় লিখলো। এসব কারণে পরিবারের সম্মান নষ্ট হচ্ছে।
বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন বলেন, রুহুল আমিন এলাকায় সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তারা পারিবারিক ভাবে ভালো মানুষ। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বিয়ের পরে মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। এছাড়া ছেলে চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। জানা মতে, সন্তানরা তার বাবা-মাকে দেখেন। এই দিক থেকে কোন সমস্যা নেই। আমার জানা মতে, তিনি দীর্ঘদিন থেকে কোমর এবং পা ব্যাথায় ভুগছিলেন। যেহেতু বয়স হয়েছে শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এ কারনে তিনি আত্মহত্যা করে জীবনের জ্বালা মেটাতে পারেন।
সার্বিক বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, পারিবারিক ভাবে জানা গেছে, তিনি কিছু ঋণ নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। শুনেছি পেঁয়াজে আশানরূপ ফলন হয়নি। পেঁয়াজে লোকসান হবে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এছাড়া শারীরিক ভাবে অসুস্থ। এ কারণে তিনি আত্নহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।


প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৫ | সময়: ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ