বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা:
আজ দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রানের উৎসব সর্বজনিন পহেলা বৈশাখ । ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বটমুল চত্বরে আয়োজিত এই উৎসব শোভা যাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর বাঘায় আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা নতুন বছরকে। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস ও বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তর বিষয়টি তুলে ধরে এদিন বাঘা উপজেলা প্রশাসন ও শাহদৌলা সরকারি কলেজের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধর্ম, বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি জাতি নববর্ষকে সাদরে আমন্ত্রণ জানায় এবংএ অনুষ্ঠানটি বাঙালির সার্বজনিং শিকড়ের মিলনমেলায় পরিনত হয়।
সকাল ৯ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও দিন ব্যাপি মেলার উদ্বোধন পরবর্তী বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ ঐতিহ্য লাঠি খেলা। লাঠি খেলায় ঢোল বাদক হিসেবে অনন্য ভুমিকায় অংশ নেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি।
উপজেলা প্রশাসন কতৃক উপজেলা পরিষদ বটমুল চত্বরে আয়োজিত উৎসবে স্টল ঘুরে দেখা যায়, বাঙালির শিল্প নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতার প্রতীক ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও হস্তশিল্পের পণ্য কিনে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করেন উৎসবে আসা মানুষ। বিশেষ করে পান্তাভাত, নানা ধরনের পিঠা,ইত্যাদি খাবারের সমাহার ছিল দিনব্যাপি উৎসবে।
পৈত্রিক পেশার ঐতিহ্য ধরে রেখে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের স্টল সাজিয়ে বসেন বাঘা পৌর সভার নারায়নপুর গ্রামের কুশ পাল। স্বপ্ন ছোঁয়া যুব মহিলা সংগঠনের স্টলে গিয়ে দেখা গেলো হাতের নকশি দিয়ে তৈরী নানা রকম পোষাক। পান্তা ভাত পিঠা পুলির স্টল সাজিয়ে বসেন উপজেলা গার্লস গাইড। তাদের মতো বিভিন্ন পণ্যর ৮টি স্টলের দেখা মেলে নববর্ষ উদযাপন উৎসবে। নববর্ষ অনুষ্ঠানে আসা কলেজ শিক্ষার্থী শান্ত মিঞা বলেন, লাঠি খেলা,মাটির তৈরি জিনিসপত্র দেখে ভালো লেগেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, এবারের বাংলা নববর্ষ আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এটি আমাদের লোক সংস্কৃতির অন্যতম উদাহরণ। এই উৎসব এখন শুধু শহরে নয় , এটি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সামাজিক কাজকর্ম, বিয়ে-সহ জীবনের সব বিষয়েই বাংলা সন ছিল একক ও অনন্য এক অধ্যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) সাবিহা সুলতানা ডলি,অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আছাদুজ্জামান,উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল হাসান বাবলু, সাবেক সভাপতি সহকারি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম,বাঘা পৌর বিএনরি সভাপতি কামাল হোসেন,সাধারন সম্পাদক তফিকুল ইসলাম,সাবেক সাধারন সম্পাদক সুরুজ্জামান ও বিএওনপি নেতা মোকলেসুর রহমান সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।
সানশাই/নুরুজ্জামান/রাজ