বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে গোদাগাড়ী উপজেলা চত্বরে চলছে রংতুলির আঁচড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। ইতোমধ্যে মুখোশসহ বিভিন্ন উপকরণ ও শোভাযাত্রার মোটিফ তৈরির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে।
জুলাই-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাংলা নববর্ষ। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। সেই ভাবনা থেকেই এবারের প্রধান মোটিফে থাকছে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি।
নতুন বছরের প্রস্তুতিতে গোদাগাড়ীর আঁকিয়েরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের তুলি ও রঙে ফুটে উঠছে মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুষঙ্গগুলো। এসব অনুষঙ্গ তৈরিতে কাজ করছেন স্থানীয় শিল্পীরা।
এদিকে, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও চলছে প্রস্তুতির শেষ পর্ব। লোকজ সংস্কৃতির শক্তিতে ও প্রতিবাদী চেতনায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। আয়োজকরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আরও বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হবে নববর্ষ উৎসব।
ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই আসছে বাঙালির অন্যতম সার্বজনীন উৎসব-বাংলা নববর্ষ। এ আনন্দঘন মুহূর্তের জন্য অনেক আগ থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। সব ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ উৎসবে সমান আগ্রহে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের শোভাযাত্রায় থাকবে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, ৩৬ জুলাই, শান্তির পায়রা ও পালকিসহ বড় বড় মোটিভ। মাঝারি মোটিভের মধ্যে থাকবে গরু-মহিষের গাড়ি, নাঙ্গল, জোঁয়াল, মাখল, কাস্তে, মাছ ধরার জাল, পলই, খলই, রঙিন কুলা, হাতপাখা, কলস, ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিল্পীদের অংশগ্রহণ।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলায় থাকছে হস্ত ও কুটির শিল্প, চারু ও কারুশিল্প, পিঠা ও ফুড কর্নারসহ চল্লিশটি স্টল। পাশাপাশি থাকছে বাংলা নববর্ষভিত্তিক নাটিকা, গম্ভীরা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের থাকবে পৃথক আয়োজন। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই মুখ্য। প্রতিটি সংগঠনের কার্যালয়ে মিষ্টিমুখ করানো, নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র বিতরণ এবং শুভেচ্ছা জানানো হবে। সংগঠনগুলোর সদস্যরা পরবেন বিশেষ পোশাক। বরাবরের মতো প্রভাতী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে, যার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফায়সাল আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও গোদাগাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সুন্দর একটি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অপেক্ষায় আমরা।’