মাধ্যমিকের ৭০ শতাংশ বই পায়নি শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণির বই ছাড়াই চলছে ক্লাস

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রায় দেড় মাস শেষ হতে চললেও এখনো ৭০ শতাংশ পাঠ্য বই পাইনি গোদাগাড়ী উপজেলার মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। অন্য শ্রেণির কিছু বই আসলেও নবম শ্রেণির বই এখনো পাইনি শিক্ষার্থীরা বই ছাড়াই নবম শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। নবম শ্রেণিতে বইয়ের সংকটের কারনে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, এতে শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়নে জটিলতা তৈরির শঙ্কা শিক্ষকদের।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বই না পেলে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ গ্রহণ থেকে দূরে থাকবে তারা। কেননা ফেব্রুয়ারির পর মার্চ মাস জুড়ে পবিত্র রমজানের ছুটি, তারপর ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বিষয় ভিত্তিক সিলেবাস শেষ করতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।
এদিকে বিনামূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছালেও বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হলেও এখন বেশির ভাগ শিক্ষার্থী হাতে পাঠ্য বইয়ের পিডিএফ থেকে প্রিন্ট করে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এদিকে বই না পৌঁছালেও বাজার সয়লাভ অবৈধ গাইড বইয়ে। সরজমিনে দেখা যায়, বইয়ের দোকানে গাইড বই বিক্রি হচ্ছে। বই বিক্রেতারা জানান, পাঠ্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছায় গাইড বই বিক্রি হচ্ছে বেশি। তাই বই না পেয়ে বাধ্য হয়ে গাইড বই কিনছেন শিক্ষার্থীরা।
মহিশালবাড়ি বাড়ি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল দুই ছাত্রী। নবম শ্রেণিতে পড়ে তারা। বুধবার দুপুর দিকে কথা হলো ওদের সঙ্গে। নতুন বই পেয়েছে কি না জানতে চাইলে বলল, এখনো একটি বইও পায়নি। পড়াশোনা করো কীভাবে? বলল, পুরোনো বই দিয়ে। অপর দিকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বলল, সে এখন পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি ও গণিত এই তিনটি বই পেয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট বই ১৩টি।
বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক বললেন, মাধ্যমিকে অন্য শ্রেণিগুলোতে কিছু বই পাওয়া গেলেও নবম শ্রেণির কোনো বই পাননি। তিনি জানান, ষষ্ঠ ৩টি সপ্তম ২টি অষ্টম শ্রেণিতে ৩টি বই পেয়েছি।
প্রসঙ্গত, নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এ বছর যারা দশম শ্রেণিতে উঠেছে, তাদের এখন বিভাগ-বিভাজন হচ্ছে। কেবল এই শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এ জন্য এবার তাদের দশম শ্রেণিতে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই দিতে এ মাস লেগে যাবে। এমনকি মার্চ মাস পর্যন্ত যেতে পারে। এদিকে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নতুন বইয়ের শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, পাঠ্যবই পরিমার্জনের কারণে কিছু বই ছাপাতে এবছর দেরি হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে বই না পাওয়ায় ক্লাসের সমস্যা দিয়েছে। রবিবার সকালে গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেল, বিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। সেখানে দাঁড়ানো দুই ছাত্র। দুজনই এবার সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছে। এখন পর্যন্ত দুটি বিষয়ের বই পেয়েছে। তাই ক্লাস না থাকায় বাইরে ঘোরাঘুরি করছি।
সব বই না আসা প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা আগে যে বার্তা পেয়েছিলাম তাতে জানুয়ারির মধ্যেই সব বই চলে আসার কথা ছিল। তবে এখনো অনেক বই পাওয়া যায়নি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই সব বই হাতে পাবো তিনি জানান, গোদাগাড়ীতে ৯৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫০ টি বই ২৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সব বই বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত বলেন, যে ক্লাসে যে বই আসেনি ওয়েবসাইটে সেই বইটা দেওয়া আছে। শিক্ষকরা সেই বই ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট করে ক্লাস নিতে নির্দেশনা দিয়েছি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই সব বই চলে আসবে। তখন এ সমস্যার সমাধান হয়ে হবে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫ | সময়: ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ