বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় ছয়টি মোটর সাইকেল ও একটি বাস কাউন্টার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার রাতে উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজার ও রয়না ভরট হাটে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষ গ্রুপকে দায়ী করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিএনপি নেতা ও তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান নোমান একটি মামলায় কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্ত হন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার অনুসারীরা দুই শতাধিক মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে তাকে বরণ করে লক্ষ্মীকোল বাজারে আসেন। সেখানে পথসভায় নোমানের দেয়া বক্তৃতায় পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তাকে নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে দাবি করে তার অনুসারী পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। এ সময় উত্তেজনার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে ৫ জন আহত ও ৬টি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, রাত ৯টার দিকে রয়না ভরট হাটে একটি বাস কাউন্টারে ভাংচুর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফ আল মাহমুদ নিশাতকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান নোমান বলেন, আমার পথসভা চলাকালে একটি পক্ষের উস্কানীতে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তারা হামলা করেছে। এতে আমার ভাইসহ ৫ জন আহত এবং ৬টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে।
তবে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল হক বকুল বলেন, নোমান তার বক্তৃতায় সাবেক পৌর প্রশাসক ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শরীফুল হক মুক্তা ও তার পরিবার নিয়ে কটুক্তিমুলক বক্তব্য দেয়ায় সেখানে উপস্থিত যুবদল নেতারা তাকে প্রতিহত করেছে। তবে ভাংচুরের সাথে যুবদল নেতাকর্মীদের কোন সম্পর্ক নেই।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সেখানে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়াসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
এ ঘটনায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।