সর্বশেষ সংবাদ :

চারঘাটে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের

মিজানুর রহমান, চারঘাট:

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর চারঘাটে আম গাছ কেটে তুলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে আমের উৎপাদনে ভাটা পড়ায় এবং অন্য ফসল ফলাতে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষে ছুটছেন। তাছাড়া তুলা সরাসরি জমির ক্ষেত থেকে মিল মালিকরা ক্রয় করায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এতে করে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে চারঘাটে তুলা চাষ।

 

চারঘাট উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চারঘাট উপজেলায় প্রায় ৪৪৫ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করছে। যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। তুলনামূলক কম খরচ ও অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর নতুন নতুন কৃষক তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ১৪টি গ্রামকে ৪টি ব্লকে বিভক্ত করে তুলা চাষ করছেন। এছাড়া কম বেশি প্রত্যেকটি গ্রামেই তুলা হচ্ছেন।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২, রুপালী (হাইব্রীড) প্রজাতি তুলার বীজ বপন করেছেন। চাষীদের ধারনা এবার বিঘা প্রতি প্রায় ১৮-২০ মন তুলার ফলন পাওয়া যাবে। যেখানে প্রতি মন তুলা বিক্রয় হচ্ছে ৩৬০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা। মিল মালিকরা সরাসরি ক্ষেত থেকে তুলা চাষীদের কাছ থেকে তুলা ক্রয় করছেন।

 

 

উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের তুলা চাষী মাজদার রহমান জানান, প্রায় ২ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করছেন। সাথী ফসল হিসেবে লাল শাক উৎপাদন করে ইতিমধ্যে ২ বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ মন তুলার ফলন আশা করছেন। প্রতি বিঘা তুলা চাষে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা অধিক মুনাফা করতে পারছেন বলে তিনি জানান। একই গ্রামের মাহার উদ্দীন জানান, অধিক লাভজনক, তুলনামূলক অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচ ও তুলা পরবর্তী অন্য ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় তিনি প্রায় ১ বিঘা আম বাগান কেটে ফেলে তুলা চাষ শুরু করেছেন। তিনি চলতি মৌসুমে ভালো ফলন আশা করছেন।

তুলা চাষী নাহিদ জানান তুলা চাষে প্রনোদনা হিসেবে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, কিটনাশক, পিজিআরসহ হাইব্রিড বীজ পেয়েছি। তুলা উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মরত স্টাফরা ভালো ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করেন। তাই তিনি এ বছর প্রায় ৫ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করছেন। জমি প্র¯‘ত, সার, সেচ, কীটনাশক পরিচর্যাসহ উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভজনক হবে বলে তিনি আশা করছেন। তুলা অন্যতম অর্থকরী ফসল উপজেলার একমাত্র বস্ত্র রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান থানাপাড়া সোয়ালোজ এর নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান আলী। বস্তশিল্পের চাহিদা মিটাতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ বেল তুলার প্রয়োজন হয়, এর মধ্যে প্রায় ১৫% দেশে উৎপাদন হ”েছ। তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে তুলা আমদানী নির্ভরতা কমবে বলে তিনি জানান।

 

রাজশাহীর প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোজাদ্দিক আলী শামীম বলেন, চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ জমি তুলা চাষের উপযোগী। সরকারী ভাবে তুলার মূল্য বৃদ্ধি করায় কৃষকরা নায্য দামে সরাসরি মিল মালিকের কাছে তুলা বিক্রয় করছেন। ফলে দিন দিন তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

সানশাইন/মিজান/শামি


প্রকাশিত: January 19, 2025 | সময়: 7:17 pm | Daily Sunshine

আরও খবর