বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান, বাঘা:
শীতের সকাল মানে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতি। পৌষের মাঝা-মাঝি জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ অতি কষ্টে দিন পার করছে। কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিন যাবত রাতে শীতের ভয়াবহতা যেনো বেড়েই চলেছে। কোন-কোন দিন সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় বাঘায় অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে অসহায় গরিবদুখী মানুষ।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, দেশের উত্তরের জনপদ গুলির মধ্যে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘা অনতম। গত কয়েকদিন যাবত পৌষের মাঝামাঝি ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে নাকাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে জনজীবনে। সব থেকে বিপদে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর-সহ নিম্ন আয়ের মানুষ। এখানে প্রচন্ড শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ও আলু-সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি শীতের পাশা-পাশি কুয়াশা না কমে, তাহলে বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এমন আতঙ্কে কৃষক। এ অঞ্চলে শীতজনিত কারণে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব আক্রান্তের মধ্যে অধিকাংশই শিশু এবং বৃদ্ধ ।
বাঘার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন বলেন,গত ৪/৫ দিন থেকে শীত বেড়েছে। ফলে অনেকটাই বিপর্যস্ত এখানকার জনজীবন। সূর্যের লুকোচুরিতে শীত নিবারণে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষেরা পড়ছেন বিপাকে। আয়-রোজগারে শীতের প্রভাব পড়ায় কষ্টে আছেন দিনমজুর ও শ্রমিক-সহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এই মুহুর্তে শীত নিবারণের জন্য তাদের মাঝে গরম কাপড় হিসাবে কম্বল বিতরণ করা খুবই প্রয়োজন। বিগত বছর গুলোতে শীত এলে এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের- কম্বল,চাদর,সোয়েটার ইত্যার্দি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কিন্ত এবার এখন পর্যন্ত বিত্তবানদের দেখা মেলেনি।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা: আসাদুজ্জামান জানান, তীব্র শীতের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। কাবু হয়ে পড়ছেন রিকসা ও ভ্যান চালক সহ নিম্ন আয়ের মানুষ। এর ফলে ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বাড়ছে। জনজীবনে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। স্বল্প আয় থাকায় গরম কাপড় কেনা তাদের অধিকাং জনেরই সামর্থের বাইরে। শীত নিবারণে এসব পরিবার সদস্যরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীরে গরমের তাপ উষ্ণতা নিচ্ছেন। বর্তমানে শীতজনিত কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষ। এখানে যারা ভর্তি রয়েছে তার মধ্যে সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের রোগীর সংখ্যা বেশি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার বলেন , এ বছর শীত মৌসুমে আমরা রাজশাহী জেলা পরিষদ এবং দুর্যোগও ত্রাণ মন্ত্রনালয় থেকে ৩ হাজার ৩শত পিচ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে ২ হাজার পিচ কম্বল পেয়েছি। ইতোমধ্যে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ২ টি পৌর সভায় দুস্থদের জন্য কম্বল দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও গুচ্ছ গ্রাম মাদ্রাসা, এতিম খানা, প্রতিবন্ধী স্কুল, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ও আশ্রায়ন প্রকল্প গুলোতে আমি নিজে উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেছি। আগামি সোমবার চরাঞ্চলে কম্বল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছে। সেখানেও আমি উপস্থিত থাকবো।
সানশাইন/রাজ