নাচোলে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

নাচোল প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়াগেছে।
ভুক্তোভুগি সহকারী শিক্ষকরা জানান, নাচোল উপজেলার সবদলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১৭.০১.২০০৮ইং তারিখে মোছাঃ রেহেনা পারভীনকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করন হলে প্রধান শিক্ষক পদটি সেক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়ে সহকারী শিক্ষক গণের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে স্কুলে পরিচালনা করা হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে রেহনা খাতুন বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত থকার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

তৎকালীন কমিটির সদস্য আবুল কালাম আযাদ জানান, তিনি নিয়োগপত্রটিতে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে যোগদান করেন। এছাড়া তিনি স্কুলে অনিয়মত থাকেন, ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করেন, শ্রেনী কক্ষে পাঠদান না করে অফিসে বসে ঘুমান। প্রায়ই শিক্ষা কর্মকর্তা ও অন্যান্য অতিথিদের ক্লাশ বাদ দিয়ে নিজে রান্না করে খাওয়ান। তিনি স্কুলটিকে রন্ধনশালা বানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

সহকারী শিক্ষক নীলিমা আক্তার জানান, তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিগত সরকারের নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আমাদেরকে মানসিককভাবে নির্যাতন করেন। বিদ্যালয়ে সকল সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেন। আমরা প্রতিবাদ করলে বা কোন বিষয় জানতে চাইলে আমাদেরকে অপমান অপদস্ত করেন। তিনি অফিসের নাম দিয়ে দুপুরের পরে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তিনি রাজশাহী থেকে স্কুলে আসা যাওয়া করেন বলে সূত্রে জানাগেছে।

 

 

এছাড়া তিনি পুরাতন কমিটির সদস্য নাজনীন খাতুনকে কাউকে না জানিয়ে পুনরায় এডহক কমিটির সদস্য বানালে এর প্রতিবাদ করায় কসবা ইউপির চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের পরামর্শে সোনাইচন্ডী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তাহেরকে সদস্য বানানো হয়। রেহেনা খাতুন ওই সদসস্যের সাথে কোন দিন কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি। জাতীয় দিবসসহ অন্যান্য দিবস পালনে তিনি কারো সাথে যোগাযোগ করেন না। ২০২৩ সালে মহান বিজয় দিবসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ সরকারী ঘোষিত কর্মসূচী পালন বাধ্যতামূলক হলে সেই অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন কাউকে না জানিয়ে বাইরের চলে যান। পরে তৎকালীন সভাপতি মিনহাজুল তাকে ফোন দিলে তিনি রাস্তায় আছেন বলে জানান। জাতীয় পতাকা অফিসে না রেখে স্কুলের পাশে বাড়ীতে রাখেন।

 

 

পরে সভাপতি আনিয়ে সদস্য ও শিক্ষকমন্ডলীদের নিয়ে তা পালন তৎকালীন কমিটির সদস্য আবুল কালাম আযাদ জানান, ২০১৮সালে সরকার থেকে স্কুলের নামে দুঃস্থ ছাত্রদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচী বাস্তবায়ন এর জন্য এক টন জিআর চাউল বরাদ্দ হলে তিনি প্রকল্প সভাপতি হয়ে উত্তোলন করে আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী চালুর পর প্রাকের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে ডাসকো ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও সরকরের অনুমোদন ক্রমে শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনী শিক্ষকসহ শ্রেনী কক্ষ সজ্জিতকরণ প্রাকের যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ এই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করে। ২০১৯-২০২২ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪বছর মেয়াদী ভালোভাবে পরিচালনা করেন। আর সেই সুযোগে প্রধান শিক্ষক সরকারের প্রতি অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ সমুদায় ভাউচার সর্বস্ব ব্যয় দেখিয়ে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। সরকারের প্রতি অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ এর অর্থ শুধু ভাউচারে সীমাবদ্ধ রাখেন। স্লিপ পরিকল্পনার বিষয়ে কখনো এসএমসি ও স্যাক কমিটির সাথে আলোচনা করেননা।

 

বিদ্যালয় ভবন নির্মানের সময় ঠিকাদারের সাথে গোপনে উৎকোচের বিনিময়ে সিএমসি কমিটিকে না জানিয়ে ঠিকারের সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। বিদ্যালয়ের ওয়াসব্লক নির্মান কাজ অত্যন্ত নিন্মমানের। সেখানে ঠিকাদারের সাথে গোপন সক্ষ্যতা তা বাস্তবায়ন করেন সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম জানান। তিনি আরো জানান, ২৩/৮/২০২৩ ইং তারিখ অত্র প্রতিষ্ঠানের ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বাড়ী ফেরার পথে জনৈক ভ্যানচালক আকবর কর্তৃক ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হলে নির্যাতিতার বাবা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুনকে অবহিত করলে রেহেনা খাতুন প্রভাবিত হয়ে তা ধামাচাপা দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অবমাননা করেন। শ্রেনী কক্ষে কখন প্রজেক্টটারের মাধ্যমে পাঠ দান হয়না।

 

 

গত ০৪/১১/২০২৪ ইং তারিখ সকাল সাড়ে ৬টায় রেহেনা খাতুনসহ আরো ৩জন শাহিদুন নেশাকে লাঠি দিয়ে মারধর করলে ওই ভূক্তোভূগি মহিলা রেহেনা খাতুনের নামে নাচোল থানায় একটি জিডি করেন। যার নং-১৪৩, তারিখ ০৪/১১/২৩ইং। গত ৭/১১/২০২৪ইং তারিখে তিনি ব্যাক্তিগত কারন দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পত্র উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দিলে তিনি অদৃশ্য কারনে পুনরায় তিনি ১১/১১/২০২৪ইং সোমবার তারিখে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারে বসেন। তিনি টিও ও এটিওকে ম্যানেজ করে যখন যা মনে লাগে তাই করেন বলে ওই সাবেক সদস্য জানান।

 

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রেহেনা খাতুন এর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুনের অব্যহতিপত্রটি পেয়েছি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ছুটিতে থাকায় তা কার্যকর করা হয়নি। তিনি আসলেন কার্যকর করা হবে। এছাড়া ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সানশাইন / শামি


প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২৪ | সময়: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine