বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সেস কোয়ার্টার থেকে দিনের বেলায় প্রায় ২৭ ভরি স্বর্ণাংলকার চুরির পর আবারো একই সময়ে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগের চুরির ঘটনায় মুল আসামীরা আটক না হওয়ায় এ নিয়ে ভুক্তোভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ জড়িত থাকার বিষয়টি জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া না হওয়ায় আবারো এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে হাসপাতালে কর্মরত অফিস সহকারী সাব্বির আহম্মেদ ও আয়া সামসুন্নাহার প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার সকাল ৮টার দিকে বেড়িয়ে যাবার পর দুপুরের আগে কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১ টার দিকে তারা কোয়াটারে এসে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা।
সাব্বির আহম্মেদ জানান, তার কোয়াটারের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। রবিবার তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার পর বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরের আলমারি ভেঙ্গে ৫ আনা সোনার একটি চুরি, একই ওজনের একটি রুপার ব্রেসলেট এবং ১৪ হাজার টাকা এবং পাশের বাসায় একই কায়দায় ঢুকে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। এ সময় বাসার সব আসবাবপত্র এলোমেলো পড়ে ছিল।
তিনি আরও জানান, ঘটনার ৫ মাসেও আগের চুরির ঘটনায় আসামীরা আটক না হওয়ায় এবং বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আতঙ্কে বাস করছেন। এরই মধ্যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারনে এ চত্তর আর নিরাপদ নয়।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, রেডিওলোজি ও ইমোজিং কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তারা সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে কোয়ার্টারের ঘরের দরজায় তালা দিয়ে চলে যান ডিউটিতে। এর সুযোগে ফাকা বাসা পেয়ে দরজার শিকল ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বিবাহিত মেয়ে, স্ত্রী ও বাচ্চাদের ২৭ ভরি স্বর্ণাংলকার চুরির পর অভিযোগ দেয়ার ৫ মাসেও কোন ব্যবস্থা হয়নি। উল্টো কোয়াটারে নিরাপত্তা না থাকায় তিনি অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেছেন। তার অভিযোগ কোয়াটারের সন্দেহজনক কয়েকজন স্টাফদের নাম ও ফোন নম্বর দেয়ার পরও তাদের পুলিশ আটক না করায় এবং হাসপাতাল কর্তপক্ষও নিরাপত্তা দিতে না পারায় চুরির ঘটনা আবারো ঘটেছে।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়া চুরির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, তিনি সরকারী কাজে বাইওে থাকায় এস আই খোকনের নেতৃত্বে একটি পুলিশের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি তদন্ত চলছে।তবে তিনি নতুন যোগদান করায় আগের চুরির ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় দাবী কওে বলেন, আগের ঘটনাটিতে কোন গাফলতি থাকলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
চলতি বছরের ৩ জুন সকালে সরকারি হাসপাতালের নাসেস কোয়ার্টারে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, রেডিওলোজি ও ইমোজিং কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও সিনিয়র নার্স সাকেরা খাতুন দাম্পতির বাড়িতে ঢুকে ২৭ ভরি স্বর্ণলংকার ও লক্ষাধিক টাকা চুির করে নিয়ে যায় চোরেরা।