যুবদল কর্মীকে অপহরণ করে হত্যার মামলা, অপর সন্তানের সন্ধান দাবী

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: ঘটনার ৮ বছর পর অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ এনে নিহত এক যুবদল কর্মীর পিতা শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজশাহী রেঞ্জের ডি আই জি সহ পুলিশের ৫ জন কে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৭ নেতা কর্মীর নামে মামলাটি করা হয় শুক্রবার দিবাগত রাতে। এ মামলায় অপহৃত অপর সন্তানের সন্ধান চেয়ে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারী শিবগঞ্জ উপজেলার পারদিলালপুর গ্রামের নিহত বিএনপি কর্মী মিজানুর রহমানের পিতা আইনাল হক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি নিজে বিএনপির সমর্থক ও ছেলে সেতাউর রহমান জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৭ আগষ্ট প্রধান আসামী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামের সহায়তায় শিবগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলে সেতাউরকে না পেয়ে যুবদলের কর্মী মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে ২৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে আবারো একই কারণে অভিযানে এসে না পেয়ে অপর ছেলে রেজাউল কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এর কিছুদিন পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এক ছেলে মিজান জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে এমন তথ্য পাবার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যোগাযোগ করলে তারাও একই তথ্য দেয়। তবে অপর ছেলে রেজাউলকে অদ্যবধি ফেরত দেয়নি পুলিশ।
অভিযোগকারীর দাবী পুলিশ তার ২ ছেলেকে অপহরণের পর এক ছেলেকে হত্যা এবং অপর ছেলেকে গুম করে দিয়েছে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা এবং নিষ্ঠুর আচরণের কারণে বিচার না পাওয়ায় এবং সরকার পরিবর্তনের পর আশান্বিত হয়ে মামলা করায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়।
শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুকোমল দেবনাথ জানান, ২০১৬ সালের ঘটনায় আইনাল হক মামলার এজাহারে দাবী করেন তার ছেলে মিজান কে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও শিবগঞ্জ থানার ওসির নিদ্দের্শে থানার এক এস আই সহ পুলিশের একটি দল অপহরন করে হত্যা করে। এ মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামকে প্রধান আসামী করে এবং তৎকালিন রাজশাহী রেঞ্জের ডি আই জি এম খুরশিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান, ওসি রমজান আলী, শিবগঞ্জ থানার এস আই গাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, অপর এস আই শাহ আলম সহ ১২ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত নামা পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে তৎকালিন শিবগঞ্জ থানার ওসি রমজান আলি জানান, অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ সত্য নয়। দেশে সবচেয়ে বড় জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানী ঢাকার গুলসানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হলে সেখানের পুলিশের অভিযানে ছয় জঙ্গিকে খতম করা হয় ও একজনকে ধরে ফেলা হয়। সে অভিযানে মিজান নিহত হয়।
এর আগে এ ঘটনায় বাংলাদেশের নাগরিক ও বিদেশি সহ প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২ জন। অন্যদিকে, ওইদিন রাতেই হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বিপিএম মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, মামলায় পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ সহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। মামলাটি সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৪ | সময়: ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর