বাগমারায় অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার চক মহব্বতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা চারঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তারা নিজ কক্ষে শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে মুক্ত করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য মতে, আশরাফুল ইসলাম পাঁচ বছর আগে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আ’লীগ সরকারের দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েন। ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা সোচ্ছার হয়ে উঠে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় কিছু লোকজন বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবি জানান। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানিয়ে তাকে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেনাবাহিনীর একটি দল বিদ্যালয়ে পৌঁছান। আন্দোলনকারীরা তাদের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লোপাটের মৌখিক অভিযোগ দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আন্দোলনকারীদের আইনগত দিক বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীরা শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে অনড় থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে আন্দোলকারী কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর পরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রধান শিক্ষককে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন সাময়িক ভাবে বরখাস্তের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
আন্দোলনকারী ২০-২৫ জন অভিযোগ করে বলেন, আশরাফুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি প্রায় ৮৩ লাখ টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে না রেখে পকেটে ভরেছেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। তার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগ সত্য নয়। তিনি পরিস্থিতির শিকার বলে দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযোগগুলোর তদন্ত চলাকালীন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৪ | সময়: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ