সর্বশেষ সংবাদ :

ভোট দিতে পেরে খুব খুশি অন্ধ সোলেমান

মিজানুর রহমান, চারঘাট: বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন সোলেমান আলী মন্ডল। হাঁটাচলাও করতে পারেন না। চোখেও দেখেন না তিনি। তবুও ভোটের আমেজে ঘরে বসে থাকেননি তিনি। তাই ছেলের ঘারে ভর করে এসেছেন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৪র্থ ধাপের চারঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে।
৪র্থ ধাপের চারঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বুধবার ৫ জুন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চারঘাট সদর ইউনিয়নের বড়বড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ দৃশ্যের দেখা মেলে। প্রায় ১০০ বছর বয়সী অন্ধ সোলেমান আলী মন্ডল ছেলের ঘারে ভর করে এসে ছেলের সাহায্যে ভোট দেন।
সোলেমান আলী মন্ডলের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়বড়িয়া বাথানপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম উদ্দত আলী মন্ডল।
ভোট কেন্দ্রে কথা হয় সোলেমান আলী মন্ডলের সঙ্গে। এসময় তিনি বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর থেকে একবারও ভোট দেওয়া বাদ যায়নি আমার। বয়স হয়েছে, শারীরিক নানা জটিলতায় বিছানা থেকে উঠতে পারি না। চোখেও দেখিনা প্রায় ২০ বছর ধরে। তাই শেষ বয়সেও এসে ভোট না দিয়ে থাকতে পারিনি। তাই ছেলের ঘারে ভর করে ভোট দিতে এলাম। ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আর কোন দিন ভোট দিতে পারবো কিনা জানি না। তাই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।
কারো চাপে ভোট দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বৃদ্ধ অন্ধ সোলেমান বলেন, আরে বাপু কে আমারে চাপ দিবে। আমি নিজেই জানি আর বুঝি কাকে ভোট দিতে হবে। আমাকে কেউ চাপ দেয়নি। তবে অনেকেই ভোট চাইছেন তার কাছে।
সোলেমান আলী মন্ডল আরও বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে চোখে একটি পোকা পড়ার মত মনে হলো। এরপর ধীরে ধীরে আমার চোখ অন্ধ হয়ে গেলো। আমি আর কিছুই দেখতে পাইনি। চোখে না দেখতে পেলেও সন্তানসহ আত্মীয় স্বজনদের চোখে আমি সব দেখতে পাই। পাচ ওয়াক্ত নামাজও পড়েন তিনি। তিনি আরও বলেন, জীবনে আর কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবো কিনা জানিনা। তবে আমি ভোট দিতে পেরে চরম আনন্দিত।


প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৪ | সময়: ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর