, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আরম্ভ করেছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা।
এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা কাস্টমস সুপারের নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা তাদের। এতে করে বন্দরে ভারতীয় ট্রাকের জট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে এ কর্মবিরতি আরম্ভ করে অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীরা এবং রাত ৮ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল। এদিকে কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে পণ্যবাহি ট্রাকের জটের সৃষ্টি হয়েছে।কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকলে বুধবার ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের ভেতরে নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে ওয়াসিম আকরাম সহ অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তুচ্ছ বিষয়ে এবং বিনা কারণে কর্মচারীদের ওপর হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো ভুলত্রুটি না থাকলেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল সাবমিট করার পর বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন আইন দেখিযে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করার মত ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
রাতের বেলা দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
একজন আমদানীকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে কোন কারণ ছাড়াই পন্য চেকিং এর নামে সবগুলো গাড়ি পানামার ভিতর আনলোড করার জন্য নির্দেশনা জারি করে। এতে করে পন্য খালাসের বাড়তি খরচ ওই আমদানিকার ও সিএনএফ এজেন্ট বহন করতে হয় । অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো আরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।পরে আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন।কারো সাথে অশালীন বা খারাপ আচরণ করা হয় কিনা তা তা জানা নাই।
আসিয়েনফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কর্মচারীরা কি কারণে আন্দোলন করছে তা জানার জন্য তাদের আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও তারা প্রত্যাখ্যান করায় আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারো ফাইল আটকে রাখা বা কাউকে হয়রানি করার অভিযোগের কোন সত্যতা নাই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন সোনা মসজিদ স্থলবন্দর টি চোরাচালানের এলাকা হাওয়ায় প্রয়োজনে কাস্টমস কর্মকর্তারা দিনরাত এখানে অবস্থান করতে পারে এটা আইনের পরিপন্থী নয়।
এদিকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোট লিঙ্ক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে পণ্যবাহি ট্রাকের জটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিনে ভারত থেকে ৩৬০ টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশী পণ্যবাহিনী ট্রাক বা ভারতীয় কোন খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের হয়নি। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বুধবার ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে নিয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।