সর্বশেষ সংবাদ :

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ২২ জনের মৃত্যু: অসচেতনতার কারণে বাড়ছে মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী অঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ জেলায় সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী জেলা, যেখানে মারা গেছেন পাঁচজন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ভর্তি আছে ১৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। বুধবার রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর রাজশাহীতে পাঁচজন, নাটোরে দুজন ও কুষ্টিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া পাবনা, ঝিনাইদহ ও সিরাজগঞ্জ জেলার একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মৃত্যুর ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। অন্যদিকে রাজশাহীর বাসিন্দা ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী—এই দুই জেলার রোগীদের মৃত্যুর হার মোট মৃত্যুর ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি জেলাগুলোতে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের, যা মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা রাজশাহীর দ্বিগুণ। এমনকি বাকি ছয় জেলার সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যু তিনজন বেশি। ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে জেলাটিতে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে রাজশাহীতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলার সম্মিলিত মৃত্যুর চেয়ে বেশি। অন্যদিকে পাবনা, ঝিনাইদহ ও সিরাজগঞ্জে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। মৃত্যুর দিক থেকে পাঁচজন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ জানতে সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। অনেকেই অসচেতনতার কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন না। রোগের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।


প্রকাশিত: November 5, 2026 | সময়: 5:55 am | সুমন শেখ