, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর কাটাখালী থানার এমাদপুর গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, মাদক বিক্রির নগদ ১১ লক্ষাধিক টাকা এবং একটি মোবাইল ফোনসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ মাদকবিরোধী টিম ও কাটাখালী থানা পুলিশ যৌথভাবে এই জোড়া অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৪৪) এবং মানিক ইসলাম (৪৪)। উভয়ের বাড়ি এমাদপুর গ্রামে (মানিক ইসলামের পূর্ববর্তী ঠিকানা চরখিদিরপুর মধ্যচর গ্রাম)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর (২০২৬) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে আরএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী টিম কাটাখালী থানা পুলিশের সহায়তায় এমাদপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ২১০ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই সময় কৌশলে পালিয়ে যান আরেক মাদক ব্যবসায়ী মানিক ইসলাম।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আজাদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরএমপির পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির (পিপিএম)-এর নির্দেশে ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কাটাখালী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে এমাদপুর গ্রামে মানিক ইসলামের বসতবাড়িতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে টাইলসের নিচে বিশেষ কৌশলে ড্রাম দিয়ে তৈরি করা একটি গোপন গোডাউনের সন্ধান পায় পুলিশ। ওই গোডাউনে ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মানিক দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, রাজশাহীর বাঘা, বোয়ালিয়া ও মতিহার থানায় ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া কাটাখালী ও মতিহার থানায় ৩টি পেনাল কোডের মামলা এবং মতিহার থানায় ১টি অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ৮টি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে কাটাখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।