, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি সেচ কার্যক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সেচযন্ত্রের সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সোলার সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং সুপার স্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২)। সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পিএন্ডডি পার্টনার প্রোগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। ফলে বিদ্যুৎ-সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং পানির অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, বিএমডিএর আওতাধীন ১৫ হাজার গভীর নলকূপ ও লো লিফট পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থার আওতায় এনে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। বর্তমানে বিএমডিএ প্রতিবছর বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব হলে এ ব্যয় কমিয়ে বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা যেতে পারে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করেও বিএমডিএ রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়বে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিটের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাহাঙ্গীর আলম খান আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থা চালু করা গেলে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের সেচব্যয় হ্রাস এবং বিএমডিএর আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য সৌর সেচযন্ত্রের প্রতিটি অংশ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। পাম্প, মোটর, সোলার প্যানেল, কন্ট্রোলার ও ইনভার্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে দক্ষতা বাড়লে যন্ত্রের অপ্রয়োজনীয় বিকলতা কমবে এবং সেচসেবা সচল রাখা সহজ হবে। মাঠপর্যায়ে সেচব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, সৌর সেচব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আধুনিক যন্ত্র স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে, যাতে সেচযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে এবং কৃষকেরা সময়মতো সেচসেবা পান।
প্রশিক্ষণে সৌর সেচযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল সোলার প্যানেল, পিভি জাংশন বক্স, পাম্প কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, পাম্প ও মোটরের ব্যবহার এবং স্বয়ংক্রিয় সুইচিং ডিভাইসের কার্যপদ্ধতি। পাশাপাশি পাম্প চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পানির প্রবাহ ও মোটরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, কন্ট্রোলারের বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান নিয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ, মো. জিন্নুরাইন খান ও মো. তরিকুল ইসলাম; নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল আলী সরকার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. আতিকুর রহমান; সুপার স্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম এবং ডেপুটি ম্যানেজার মো. আশিক রাব্বি।সরকারি সেবা
প্রশিক্ষণে বিএমডিএর রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও মেকানিকসহ মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়বে এবং আধুনিক সেচপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী ও টেকসই করা সম্ভব হবে।