, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের তাণ্ডবলীলায় উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবুর মতো জনপ্রিয় নেতৃত্বকে হারাতে হয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ছিল বাবু হত্যা। তারা শুধু প্রকাশ্য দিবালোকে বাবুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, খুনিদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে যা যা করা দরকার তার সবই করেছে।
এ কারণে ১৬ বছরেও বাবু হত্যা মামলার বিচার হয়নি। উল্টো শেখ হাসিনা বাবুর খুনীদের বিনা ভোটে মেয়র বানিয়ে, চেয়ারম্যান বানিয়ে পুরষ্কৃত করেছে। শুধু বাবু নয়, বিএনপিকে দুর্বল করতে এমন অসংখ্য নেতাকর্মীকে তারা খুন করেছে, গুম করেছে। এতোদিন তারা ক্ষমতার বলে বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু আজ এই জনতার মহা সমাবেশে বলে গেলাম এ সরকারের আমলেই আন্তর্জাতিক আদালতে বাবু খুনীদের বিচার করা হবে ইনশাল্লাহ।
তিনি শনিবার বিকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য হামলায় নিহত নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ নুর বাবুর ১৬ তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
বনপাড়া বাজারে শহীদ বাবু চত্ত্বরে জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব, সানাউল্লাহ নুর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নুর কচি, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, সাবেক মেয়র ইসাহাক আলী, জেলা বিএনপির সদস্য এ্যাডভোকেট শরীফুল হক, অধ্যক্ষ আশরাফ আলী ও নাসিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর, বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সম্পাদক সরদার রফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোস্তাফিুজর রহমান পারভেল ও সম্পাদক মোস্তাফিজুল হক বকুল বক্তব্য রাখেন।
দুলু আরও বলেন, সেদিন আওয়ামী লীগের কারা কারা বাবুকে হত্যা করেছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে, তারপরও পুলিশ চার্জশীটে যথাযথভাবে তাদের অপরাধ উল্লেখ করেনি। বাবু হত্যার পর বেগম খালেদা জিয়া এই বনপাড়ায় এসে বাবুর খুনীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন আমরা খুনীদের বিচার নিশ্চিত করবো।
বিএনপি হত্যা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু বড়াইগ্রামের মাটিকে যারা রক্তাক্ত করেছে, তাদের সাথে কোন আপোষ চলবে না বলেও তিনি জানান। প্রশাসন আসামীদের আটকের নামে নাটক মঞ্চস্থ করছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আওয়ামীলীগ দেশকে শেষ করে রেখে গেছে। ব্যাংকে কোন টাকা নাই। বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যায় আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। এ সময় প্রধান অতিথি বাবুসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মীর খুনীদের বিচার নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদেরকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়া বাজারে দলীয় কর্মসূচি পালন কালে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম হামলায় প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবু খুন হন।