, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ২৫ টাকা হাসিল দেওয়ার পরও এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পৌর এলাকার কলেজ বাজারের দুই নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষক ও স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে হাট অফিস ঘেরাও করেও প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে ৪৫ কেজি কচুর বই (কচুর মুখি) বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের দুই নম্বর কলেজ গেটে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাঁকে আটকে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। রাকিব ২৫ টাকা দিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁকে ধরে এনে প্লাবন মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন রাকিব। এ সময় তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজকান্দা এলাকার লোকজন সহ বাজারে আসা কৃষকেরা একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ইউএনও আশিক-উর-রহমান কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে ক্ষুব্ধ কৃষকদের আরেকটি দল কলেজ বাজারের ভেতরে গিয়ে হাট অফিস ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি তাঁদের শান্ত করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে এক পক্ষের কাছ থেকে হাসিল নেওয়ার বিধান থাকলেও ইজারাদারের কর্মীরা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকেই হাসিল আদায় করছেন। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, বাজারে হাসিল আদায়ের নির্ধারিত তালিকাও টাঙানো নেই। ফলে ইজারাদারের কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া কৃষকদের সঙ্গে ইজারাদার ও তাঁর কর্মীরা প্রায়ই খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী কৃষক রাকিব হাসান বলেন, আমি বাজারে কচুর বই (কচুর মুখি) বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলাম। কলেজের দুই নম্বর গেটে প্লাবন আমাকে আটকে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। আমি ২৫ টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর আমাকে ধরে আবার সেখানে নিয়ে আসেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করেন। মারধরের সময় আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন বলেন, বাজারে পন্য বিক্রি করে ফেরার পথে হাসিলের টাকা কম দিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে। এতে তার সাথে ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটে। কিন্ত কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
কলেজ বাজারের হাট ইজারাদার বাবলু চৌধুরী বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাট অফিসে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে আমার হাতে আঘাত করে হাতে থাকা আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। আমি বর্তমানে অসুস্থ।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, হাটের হাসিল আদায় নিয়ে মারধরের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, কৃষকেরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাট ইজারাদারকে প্রত্যেকটি দর্শনীয় স্থানে হাসিল আদায়ের তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।