সর্বশেষ সংবাদ :

হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় সংঘর্ষে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহতের ঘটনায় করা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলীকে আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে হানিফকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।সংবাদ প্রচার
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকায় হানিফ আলীর পানের দোকানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হানিফ ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। ঘটনার পরদিন সকালে তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনার পরও তিনি নিয়মিত দোকান করেছেন। এ মামলায় তাঁর ছোট ভাই রবিউল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় টাকা ভাঙতি ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড় এলাকার লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হন। হানিফ ও তাঁর ভাই রবিউল ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত বারিউল ইসলামের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের তালিকায় ১১ নম্বরে রয়েছেন পান দোকানি হানিফ আলী এবং ১২ নম্বরে তাঁর ছোট ভাই রবিউল ইসলাম। পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হানিফকে আটক করে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তাঁর বিষয়ে খোঁজ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে হানিফের বাবা জামালউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ। সে পান দোকান করে সংসার চালায়। সে দোকানে যা আয় করে, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা ছেলের মুক্তি চাই।’
জামালউদ্দিন বলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে একটি পক্ষের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে ২০০০ সাল থেকে মামলা চলছে। ওই বিরোধের জেরেই হানিফ ও তাঁর ভাই রবিউলকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। হানিফের স্ত্রী দুলালী বলেন, তাঁর স্বামী অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তিনি পান দোকান করে সংসার চালান। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তাঁকে দোকান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুলালী বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলেছি, আমার স্বামী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি পালানোরও চেষ্টা করেননি। আশপাশের দোকানদারদের জিজ্ঞাসা করলেই তাঁর সম্পর্কে জানা যাবে।’ স্থানীয় দোকানি সোহেল রানা বলেন, হানিফ শান্ত স্বভাবের মানুষ। আশপাশে কোথাও মারামারি বা ঝামেলার কথা শুনলে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে হানিফ এভাবে নিয়মিত দোকান করতেন না।
এদিকে, হানিফ আলীর পাশাপাশি মামলার ৭ নম্বর আসামি মো. ইসরাইলকেও গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে চন্দ্র নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরএমপির রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা এজাহারভুক্ত আসামি।


প্রকাশিত: September 30, 2026 | সময়: 7:46 am | সুমন শেখ