, , ।
আব্দুল বাতেন: সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি তেজ ছড়ায়নি। অথচ গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের মাঠে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। সবুজে ভরে উঠছে একের পর এক জমি। সামনে আগাম শীতকালীন সবজির মৌসুম—আর সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন বুনছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, শিম, ঝিঙে, করলা, পটল, বেগুন ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির আবাদে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়া পেলে আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা কৃষকদের।
এই স্বপ্নের সারিতে রয়েছেন গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের কৃষক আলী আসগর। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পথ ছেড়ে তিনি ফিরেছেন কৃষিতে। নিজের ১০ বিঘা জমিতে করছেন নানা ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন তিনি নিজেই। জমিতে দাঁড়িয়ে গাছের পরিচর্যা আর উৎপাদনের হিসাব দুটিই যেন তাঁর নিত্যদিনের কাজ।
আলী আসগর জানান, ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষে এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
শুধু আলী আসগর নন, আগাম সবজি চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন দেওপাড়া ইউনিয়নের কদমশহর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আমিনও। এবার চার বিঘা জমিতে লাউ, বেগুন, ঝিঙে ও শিম চাষ করেছেন তিনি। এতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই জমি থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা তাঁর। কৃষক মোহাম্মদ আমিন বলেন, কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শ তাঁদের উৎপাদনে সহায়তা করছে। বিশেষ করে রোগবালাই দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় ফসল রক্ষা করা সহজ হচ্ছে। এ মৌসুমে সার পেতেও তেমন সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন এমনই ব্যস্ততা। কোথাও জমি তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে চারা রোপণ, আবার কোথাও সবজি গাছের পরিচর্যা। আগাম জাতের কিছু সবজি ইতোমধ্যে বাজারেও উঠতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কোথাও চারা গোড়ায় পচন ধরছে, আবার কোথাও পাতায় দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। রয়েছে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও। তারপরও কৃষকদের মুখে হতাশার চেয়ে আশার কথাই বেশি।
কৃষকদের এই আশাকে আরও শক্তিশালী করতে মাঠে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও আগাম টমেটোসহ নানা সবজি।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। ফসলের রোগবালাই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জৈবসার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে এবার শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতেও চলছে প্রস্তুতি ও পরিচর্যার কাজ।