, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর শহরের নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৌনে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো এখন অচল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সেগুলো বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্তে যে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি এখন কার্যত অকার্যকর।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, তৎকালিন ওসি রুহুল আমিন সভাপতি ও ডাইংপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলনকে সেক্রেটারি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে ৫ টন টিআর বরাদ্দ নিয়ে গোদাগাড়ী পৌর শহরের ডাইংপাড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ ও পৌরসভা। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাজশাহীর এ ওয়ান কম্পিউটার সেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্থাপনের কাজ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে ক্যামেরা স্থাপন করে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের সার্বিক চিত্র গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ মনিটরিং সেল থেকে পর্যবেক্ষণ করা হতো।
তবে ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের কথা থাকলেও বাস্তবে ১৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নথিতে ইউএনভি ব্র্যান্ডের ৪ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২ হাজার ২০০ মিটার তারের প্রতি মিটারের মূল্য ১৬ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দুটি ভাউচারে মাধ্যমে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ক্যামেরাগুলোর জন্য এক বছরের ওয়ারেন্টির কথাও উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে পড়ায় প্রকল্পের কাজের মান, ব্যবহৃত সরঞ্জামের গুণগত মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পৌরসভা সূত্র বলছে, বর্তমানে ক্যামেরাগুলোর তদারকি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো লোকও নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সড়কগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা সচল থাকলে চুরি, ছিনতাই, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় ঘটনার সূত্র ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হতো। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তি বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রেও ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হতে পারত। কিন্তু নিম্নমানের কাজের জন্য এসব এখন অচল। এতে পৌরসভার পৌনে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া উদ্যোগের কার্যকারিতা ও নিম্নমানের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-রক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি অর্থের অপচয় করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত ক্যামেরাগুলো সচল করা প্রয়োজন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি সুজন মিঞা বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে এসেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব রয়েছে। ক্যামেরা সচল থাকলে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ইভ টিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
গোদাগাড়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরে সহস্রাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুরো ডাইংপাড়া বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি। এ বিষয়ে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলো অচল হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। কারিগরি বা অন্য কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।