, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠে ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন এমবাপে। এই চোটেই তাকে ক্যাম্প ছাড়তে হয়েছে, ফিরে গিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়ের শুরুটা হলো জয় দিয়ে। কিন্তু সেই জয়ের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছে না ফরাসিরা। তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের একমাত্র গোলটি করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেওয়ার পরই চোটে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কিলিয়ান এমবাপেকে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ে নিচু শটে গোল করেন এমবাপে। এটি ফ্রান্সের হয়ে তাঁর রেকর্ড বাড়িয়ে ৬৭তম গোল। গোলের পরপরই অবশ্য বদলে যায় দৃশ্যপট। কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বা ফাউল ছাড়াই শট নেওয়ার সময় বাঁ হাঁটুতে চোট পান এমবাপে। মাঠেই বসে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাঁকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আবার খেলায় ফিরলেও কিছুক্ষণ পর ফের মাটিতে বসে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
শেষ পর্যন্ত ৬০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে তাঁকে তুলে নেন জিদান। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে। এমবাপে অবশ্য নিজের পায়ে হেঁটেই মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে এমবাপের চোট নিয়ে বাজে সংবাদই দিলেন জিদান। ফরাসি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘না, এটা ভালো নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা ভালো নয়। তাকে ফিরে যেতে হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নেব না। শট নেওয়ার সময় সে হাঁটুটা প্রসারিত করেছে। বিষয়টি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।
ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন পরে জানায়, এমবাপের টেন্ডনে চোট হয়েছে এবং এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি আর খেলতে পারবেন না। ফলে তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে যেতে হবে। এমবাপের চোটের কারণে জিদানের প্রথম একাদশও শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচে দেখা গেল না। অভিষেক ম্যাচে তিনি এমবাপেকে বাম প্রান্তে রেখে ডান দিকে অলিসেকে খেলান। মাঝখানে রায়ান চেরকি ও উসমান দেম্বেলের সঙ্গে তৈরি করেন আক্রমণভাগের চারজনের শক্তিশালী সমন্বয়।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য খুব একটা গোছানো ছিল না। দুই দলই বারবার ভুল পাস দিয়েছে। ইজমিতের কোকায়েলি স্টেডিয়ামের অসমান মাঠও খেলায় প্রভাব ফেলেছে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অলিসের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঠেকান তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। এরপর চেরকি ও দেম্বেলের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে আদ্রিয়েন রাবিওর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
অন্য প্রান্তে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁও দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান। ইসমাইল ইউকসেকের নিচু হেড এক হাতে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের শেষদিকে তুরস্ক আরও বিপদে পড়ে। ৮৭ মিনিটে বক্সের বাইরে ব্র্যাডলি বারকোলার শট হাতে ঠেকানোর কারণে লাল কার্ড দেখেন গোলরক্ষক চাকির। জয়ের পর নিজের প্রথম ম্যাচ নিয়ে সন্তুষ্ট জিদান। তিনি বলেন, ‘মাত্র তিন-চারটি অনুশীলন সেশন শেষে এই জয় পেয়ে আমরা সত্যিই খুশি। এটা আমাদের জন্য ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
দলের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে সমন্বয় ও বল হারানোর পর দ্রুত ভারসাম্যে ফেরার বিষয়টি তুলে ধরেছেন জিদান। তাঁর ভাষায়, ‘বার্তাটা ছিল খুব সহজ—উপভোগ করা, একসঙ্গে থাকা, দল হিসেবে চেষ্টা করা। আর আমরা সেটাই করেছি। এই ম্যাচ থেকে যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ফিরি, তাহলে বল হারানোর পর প্রতিবার আমরা যে ভারসাম্য ধরে রাখতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
জিদানের নতুন ফ্রান্সের সামনে অবশ্য ব্যস্ত সূচি। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও তিনটি ম্যাচ খেলবে তারা। ইতালির বিপক্ষে একটি ম্যাচের আগে ও পরে থাকবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুটি লড়াই।