, , ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: নিরাপদ মাতৃত্বসেবায় তিনবার পুরস্কারপ্রাপ্ত রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। ফলে গরিব রোগীর অভিভাবকরা বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।
এছাড়াও শিশুসহ বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন অভিভাবকরা। জ্বর, এ্যাজমা ও শাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে অনেক গুন। প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু, মেডিসিন ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক এসব রোগী নিয়ে ছুটছেন ৩৫ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে। ফলে গরীব অসহায় মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও শিশু ও মেডিসিন চিকিৎসকের পদও পুরন হতে পারে।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই গাইনিসহ বিভিন্ন ইউনিটের চিকিৎসক সংকট চলছে। হাসপাতালটিতে যে পরিমাণ চিকিৎসক থাকার কথা সেই পরিমাণ চিকিৎসক এখনও নেই। এর মধ্যে গাইনি চিকিৎসক না থাকার কারণে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে জরুরি ভিত্তিতে সিজার করতে বলা হলে অনেক রোগীকে ছুটতে হয় স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও রাজশাহী জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে। পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, কিছুদিন পূর্বে আমার ভাতিজির প্রসব বেদনা উঠলে নিয়ে যাওয়া হয় চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত সিজার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে সিজারিয়ান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের সিজার করাতে হয়েছে। এতে আমার প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
চারঘাট হাসপাতালে সিজারিয়ান করাতে খরচ হতো ১৫শ’ টাকা থেকে দুই হাজার। সেখানে এত টাকা খরচ করতে আমাকে অন্যের কাছে ধার নিতে হয়েছে। উপজেলার রায়পুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক বলেন, আপনার স্ত্রীর পানি শুকিয়ে গেছে দ্রুত সিজারিয়ান করা প্রয়োজন। হাসপাতালে সিজিরিয়ান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রাজশাহী মহানগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করায় এবং সেখানে প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা জোগাড় করতে সুদের উপর টাকা নিতে হয়েছে। এতে ঋণের জালে বন্দি হতে হয়েছে আমাকে।
এছাড়াও শিশু ও মেডিসিন চিকিৎসক না থাকায় অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়েও চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের। সাপে কাটলে কোন রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারছেন চারঘাটে কর্মরত চিকিৎসকরা। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মিল্টন কুমার বলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণে সিজারিয়ান অপরাশেন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পদ পুরনের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হয়ে যাবে।