সর্বশেষ সংবাদ :

একজন তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষক গোলাম সাকলাইন জনি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশন প্রধান প্রশিক্ষক, গোলাম সাকলাইন জনি। শুধু রাজশাহী নয় পুরো বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দো অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানিত একটি নাম। তৃণমূল পর্যায়ে এবং বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে তরুণ ক্রীড়াবিদদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় তায়কোয়ান্দো এবং বিভিন্ন ক্লাবের অগ্রযাত্রায় প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
একসময় খেলাধুলার ক্ষেত্র মানেই ছিল গোল্লাছুট, হা-ডু-ডু, কানামাছি, ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট, কুস্তি ও বক্সিং। সময়ের তালে তালে বাংলাদেশে প্রসার পেয়েছে কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো। এটি মূলত আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আট। তায়কোয়ান্দো শব্দের অর্থ ব্যাখ্যায় জানা যায়, ‘তায়’ অর্থ পা, ‘কোয়ান’ অর্থ হাত বা মুষ্টি এবং ‘দো’ অর্থ পথ বা শৃঙ্খলা। অর্থাৎ, হাত ও পায়ের ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খলা অর্জন করাই এর মূল লক্ষ্য।
এ নিয়ে কথা হয় রাজশাহী জেলা তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশন প্রধান প্রশিক্ষক, গোলাম সাকলাইন জনির সাথে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯২ সালের দিকে বড় ভাইয়ের হাতধরে মার্শাল আর্টে আসা। এরপর ভাললাগা থেকে ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মার্শাল আর্ট অলিম্পিকে স্বীকৃত তাইকোয়ান্দোতে যোগ দেন তিনি। এরপর ২০০০ সালে সফলতার সাথে ব্লাকবেল্ড অর্জন করেন। দীর্ঘদিন বিরতি ভেঙ্গে তাইকোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল ইসলাম রানার আহবানে আবারো তাইকোয়ান্দোতে যোগ দেন তিনি।
মনের ও দেহের শক্তি ও মাধুর্য মিশিয়ে তাইকোয়ান্দোকে বিশ্বাস ও নিশ্বাসে রেখে ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সিলভার পদক লাভ করেন। এরপর বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ফিরা হয়ে উঠেনি। তবে প্রশিক্ষক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে সফলতার সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিচরণ করেন তিনি এবং নিজের প্রতিষ্ঠান রাজশাহী তায়কোয়ান ডো একাডেমি চার বার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রানার-আপ হয়। প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে রাজশাহী তায়কোয়ান ডো একাডেমি সুনাম অর্জন করে এবং পরিচিত হয়ে উঠে।
তিনি অনেকটা আবেগ ও আফসোসের সাথে জানান, কেন্দ্র অন্যান্য বিষয়ের মতই রাজশাহীকে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেছে। তিনি বলেন এই প্রতিষ্ঠানের কিছু ভাল ও দক্ষ ফাইটার থাকলেও তাদের চাকরি হয়নি। আবার ঢাকায় যে কোন প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বৈষম্যের শিকার হয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজশাহী জেলা ক্রিড়া সংস্থার বাজেট থাকলেও কখনোই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় জুতা, ট্রাকস্যুটসহ বিভিন্ন পোশাক দেয়া হয় না। যা নিজেদের খরচে করতে হয়। তিনি বলেন, দেশে অনেকের সাফল্য আছে সফলতা নেই। ‘২০২৩ সালে আমি ভারতের গুডউইল গেমসে সেরা কোচ নির্বাচিত হই এবং ২০২৪ সালে ওই দেশের ঝাড়খন্ডে মাস্টার কোর্স সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করি’।
এখন তাঁর স্বপ্ন একটাই রাজশাহী তায়কোয়ান ডো একাডেমির শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালভাবে অংশ নিবে। তিনি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতীয় পর্যায়ে ২বার চ্যাম্পিয়ন ৩বার রানার আপ হয়, কোরিয়া ক্যাম্পে একবার কুক্কিয়ন ও একবার চ্যাম্পিয়ন হন। এছাড়াও তিনি বিজিবি ১১,১২,৩৯,৪৯, ও ৩৪ এ সফলতার সাথে সহকারী ও প্রধান রেফারি হিসাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
শেষে তিনি বলেন, এই মার্শাল আর্টটি মূলত আত্মরক্ষা, শারীরিক ফিটনেস ও মনোবলের উন্নতি করে। মজার বিষয় হলো ছয় থেকে ৮০ বছর বয়সী যেকোনো নারী-পুরুষের পক্ষে তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব। হয়তো এ কারণেই সব বয়স ও পেশার মানুষের মধ্যে এটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং শিক্ষার্থী সংখ্যাও বাড়ছে।


প্রকাশিত: September 13, 2026 | সময়: 5:15 am | সুমন শেখ

আরও খবর