সর্বশেষ সংবাদ :

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা

নুরুজ্জামান, বাঘা: যৌন হয়রানি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক সমস্যা নয়, এটি নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মজীবন এবং স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য বড় হুমকি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কলকারখানা-বিভিন্ন জায়গায় নারীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এক সময় এ ধরনের ঘটনাকে ‘ইভটিজিং’ বলে হালকাভাবে দেখার প্রবণতা ছিল। কিন্তু নারীকে উত্ত্যক্ত করা, অনুসরণ করা, অশালীন মন্তব্য, কুপ্রস্তাব, আপত্তিকর ছবি বা বার্তার মাধ্যমে হয়রানি-কোনোটিই নিছক দুষ্টুমি নয়, এগুলো নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ কমিটি গঠন, অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন আইনগত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ।
অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা, ভয়, পারিবারিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় অভিযোগ করেন না। ফলে বহু ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। তাই অপরাধীর পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তাকে আইনি ও সামাজিক সহায়তা দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই নারী-পুরুষের সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সম্মতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার শিক্ষা দিতে হবে। তরুণ সমাজকেও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশের সময় ভুক্তভোগীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করে অপরাধ প্রতিরোধ ও বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ বিষয়ে সমাজের অভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য, যৌন হয়রানি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এটি মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যা প্রতিরোধে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রথমত, তরুণদের মধ্যে যৌন হয়রানি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার, পারস্পরিক সম্মান এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোথাও যৌন হয়রানি ঘটতে দেখলে নীরব না থেকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনে পরিবার, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তাকারী কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিতে উৎসাহিত করতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নীরবতা অপরাধীকে সাহসী করে, আর সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে।


প্রকাশিত: September 12, 2026 | সময়: 6:40 am | সুমন শেখ